হারলেও তাইপেকে সহজে জিততে দেয়নি বাংলাদেশ

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়ে থাকা চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে নিয়মিত অধিনায়ক সাবিনা খাতুনকে ছাড়াই একাদশ সাজিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার ঝুঁকি নিয়েছিলেন। যদিও শেষ ১২ মিনিট বদলি নেমে সাবিনা সেটপিসে অংশ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। এর আগেও স্বাগতিকরা দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। যদিও এক গোলে পিছিয়ে পড়ে বারবারই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেও হার এড়াতে পারেনি। চাইনিজ তাইপের কাছে ১-০ গোলে হেরে ফিফা প্রীতি ম্যাচের দ্বিতীয় ও শেষটিতে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন সাবিনা। সেই ২০১০ সাল থেকে খেলছেন টানা জাতীয় দলে। সেই সাবিনা এর আগে কখনও চোট কিংবা ফিটনেসের কারণে একাদশ থেকে বাদ পড়েননি। তাকে ছাড়াই সোমবার কিংস অ্যারেনাতে বাংলাদেশ আগের ম্যাচের চেয়ে ইতিবাচক ফুটবল খেলছে। প্রথম ম্যাচে বিরতির আগে তিন গোল হজম করতে হয়েছিল, আজ মাত্র একটি। শুধু তাই নয়, এক গোলের বিপরীতে স্বাগতিকরা কয়েকবার আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্য সমতাসূচক গোল আসেনি।

ম্যাচের ১১ মিনিটে তাইপের লিন হুই বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে শট নিলেও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

১৭ মিনিটে তাইপে এগিয়ে যায়। বক্সের ভেতরে লিনের কাটব্যাক থেকে সু ইউ হুসুয়ান ৬ গজের কোনা থেকে গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে।

গোল খেয়ে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। মাঝেমধ্যে মনিকা-মুনকিরা বল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। ১৯ মিনিটে মনিকা চাকমা দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নিলেও তা গোলকিপারের তালুতে জমা পড়ে।

২৬ মিনিটে স্বপ্না রানীর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। তিন মিনিট পর মুনকি বক্সের ভেতরে থেকে আক্তারের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে গোল পাওয়া হয়নি।

বিরতির পর তাইপে আবার চেপে ধরার চেষ্টা করে। তবে গোল ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। তাদের আধিপত্য ছিল মাত্র ১০ মিনিটের মতো। আবার বাংলাদেশ আক্রমণে নেতৃত্ব দেয়। হাই লাইন ডিফেন্স খেলে তাইপেকে বেশ চাপে রাখে। তবে দুর্ভাগ্য গোল আসেনি এই অর্ধেও।

৬১ মিনিটে স্বপ্না রানীর কর্নারে শামসুন্নাহারের হেড পোস্টের পাশ দিয়ে যায়। এর আগে তহুরা বক্সে ঢোকার মুহূর্তে ট্যাকল করে কর্নার করেন।

৬৯ মিনিটে মনিকার জোরালো শট অনেক ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটে সতীর্থের ক্রসে শামসুন্নাহার লক্ষ্যে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি। বল চলে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে বাইরে।

৭৮ মিনিটে সাবিনা নামেন। নেমেই সেটপিস থেকে একের পর এক আতঙ্ক ছড়ান। তবে শামসুন্নাহার-মুনকিরা লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি রক্ষণের দৃঢ়তায়। ম্যাচ হারলেও স্বাগতিকদের লড়াকু পারফরম্যান্স সবার চোখে পড়েছে। ১০০ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে এমন লড়াকু পারফরম্যান্স দর্শকদের মনে থাকবে অনেকদিন।