‘তারুণ্যের দিকে ঝুকে যেন বাংলাদেশের ক্ষতি না হয়ে যায়’

দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশ দলের একাদশে জায়গা হয়নি অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের। ফিফা প্রীতি ম্যাচে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে নেমেছিলেন শেষের দিকে। ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বিচারে নারী দলে তারুণ্যের ওপর ভরসা রাখতে শুরু করেছেন। প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সাবিনা- মাশুরা নন, তারুণ্যেই তার আস্থা! 

তবে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাবিনা কোচের সব কথাতে একমত পোষণ করেননি।  চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বিরতির পর উঠে যেতে হয়। পরের ম্যাচে তো ১২ মিনিট খেলতে পেরেছিলেন।

সাবিনা কোচের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আসলে লিগ খেলে সবাই কম বেশি ক্লান্ত। আমি নিজেও কিছুটা অসুস্থ ছিলাম। তাই তাইপের বিপক্ষে সেভাবে খেলা যায়নি। এটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে হয়েছে। কোচের কাছে যার পারফরম্যান্স ভালো মনে হবে, সেই দলে সুযোগ পাবে। এটাই তো হয়ে আসছে।’

একই সঙ্গে সাবিনা বলতে চাইলেন, শুধু তারুণ্য দিয়েই সবকিছু হওয়া কঠিন। অভিজ্ঞতারও মূল্যায়ন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘তারুণ্যের প্রয়োজন আছে। তাই বলে তারুণ্যের দিকে ঝুকে যেন বাংলাদেশের ক্ষতি না হয়ে যায়। সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। আমার মনে হয়, সবাইকেই এখানে দরকার। শুধু তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে খেললে সাফে কোনও কারণে খারাপ ফল হলে যেন খেলোয়াড়দের ওপর দায় না আসে।’

বাটলার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সাবিনার মতো ৩০ বছর বয়সী খেলোয়াড়রা অনেক কিছু নিতে পারেন না। তাই তারুণ্যনির্ভর দলই ভরসা। সাবিনার যুক্তি, ‘উনি তিন মাস এসেই আমাকে বুঝে ফেলেছেন এটা তো ভালো! উনার কথা উনি বলেছেন। তবে আমি সাবিনা নিজের যোগ্যতা দিয়ে খেলে আসছি। আবারও যোগ্যতা দিয়েই দলের একাদশে শুরু থেকে জায়গা করে নেবো।’

নেপালের কাঠমান্ডুতে আবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হতে যাচ্ছে। সাবিনা তাই সাবধানী, ‘ওখানে নেপাল তো সুবিধা পাবেই। ভারতও শক্তিশালী দল। পাকিস্তানও ভালো। আমার মনে হয় আমাদের প্রস্তুতিটা আরও ভালো হওয়া উচিত। আরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা উচিত।  আর কোচ সবার যোগ্যতা দেখেই সাফের দল গড়বেন। আমিও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে সেই দলে খেলতে চাই।’