ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের নজিরবিহীন আগ্রাসন চলছে। পার্শ্ববর্তী দেশ লেবাননও এই যুদ্ধের সঙ্গে কম-বেশি জড়িয়ে আছে। এরই মধ্যে বৈরুতে ৮ থেকে ১৬ জুলাই চার জাতি নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে স্বাগতিক লেবানন ছাড়াও নেপাল, জর্ডান ও বাংলাদেশের নাম আছে। তবে নাম থাকলেও সাবিনা-সানজিদাদের সেখানে খেলার জন্য পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে বাফুফে।
কয়েকমাস আগে চার জাতি টুর্নামেন্ট নিয়ে আমন্ত্রণ পায় বাফুফে। তবে কিছু দিন আগে সেখান থেকে টুর্নামেন্ট নিয়ে লিখিত আকারে জানানো হয়। এরই মধ্যে বাফুফে থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে লেবাননে খেলতে যাওয়া নিয়ে মতামত জানতে চেয়েছিল। মন্ত্রণালয় থেকে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে মতামত পাওয়ার পর বাফুফে চার জাতি ফুটবলে খেলতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘লেবানন কয়েকমাস ধরে চাইছিল আমরা যেন চার জাতি ফুটবলে অংশ নেই। আমরা প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি দেখে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও আমাদের সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তাই সব বিবেচনা করে আপাতত লেবাননে খেলতে যাওয়া হচ্ছে না। কেননা আমরা মেয়েদের নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছি না। আমরা এরই মধ্যে লেবাননকে তা জানিয়ে দিয়েছি।’
জুলাইয়ের ফিফা উইন্ডোতে লেবাননে খেলতে না গেলে বিকল্প চিন্তা করে রেখেছে বাফুফে। দক্ষিণ এশিয়ার কোনও দেশে গিয়ে অন্তত দুটি ম্যাচ খেলার ইচ্ছা। এরই মধ্যে যোগাযোগও চলছে। আদৌ খেলা হবে কিনা সংশয় রয়েছে। এর আগেও বাফুফে নারী দলের ফিফা উইন্ডো সব কাজে লাগায়নি। বিশেষ করে এ বছর মে মাসে ঢাকায় শুধু চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে খেলেছে। খরচের কথা ভেবে ‘যত কম খেলা যায় তত মঙ্গল’ যুক্তিতে এগিয়েছে। এবারও জুলাই উইন্ডোতে সাবিনা-সানজিদাদের বসে থাকবে হবে কিনা তা সময় বলে দেবে।
তবে নারী দলের হেড কোচ ইংলিশ পিটার বাটলারও চাইছেন নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকতে, ‘অক্টোবরে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। তার আগে চাইছি দল যেন নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকে। এতে করে সবার অবস্থান জানা যাবে। ভালো প্রস্তুতি হবে।’