ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনেক আগে থেকেই আইডল মেনে আসছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবার তারই মুখোমুখি হচ্ছেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড। ২০১৬ সালের ইউরো ফাইনালে নিজের আইডলের কাছেই দেশের হার দেখেছেন, তখনও সিনিয়র জাতীয় দলের সদস্য হননি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে এবার রোনালদোর প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক এমবাপ্পে। শুক্রবার ইউরো কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল বনাম ফ্রান্সের ম্যাচ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চ ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের মনে। এই ম্যাচের আড়ালে হতে যাচ্ছে দুই তারকার লড়াই। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১টায় হ্যামবুর্গে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
ম্যাচের আগে রোনালদোকে নিয়ে রোমাঞ্চ লুকাননি এমবাপ্পে, ‘ক্রিস্টিয়ানোর জন্য আমার মুখে সবসময় প্রশংসাই লেগে থাকে। তাকে জানার সুযোগ হয়েছিল আমার, অনেকবার তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এখনও আমাদের যোগাযোগ হয়। তিনি আমাকে সবসময় উপদেশ দেন এবং খোঁজখবর রাখেন। তিনি ফুটবলে যা করেছেন, সেজন্য তার বিপক্ষে খেলা সম্মানের ব্যাপার।’
তবে আবেগকে একপাশে সরিয়ে রেখে ম্যাচটি জিততে চান ফ্রান্সের অধিনায়ক, ‘আগে কী ঘটেছে বা পরে কী ঘটবে, তা ব্যাপার নয়। তিনি সবসময় ফুটবলের লিজেন্ড থাকবেন। কিন্তু অবশ্যই আমরা জিততে ও সেমিফাইনালে পৌঁছাতে আশাবাদী।’
দুই দলের লড়াই ছাপিয়ে আলোচিত হচ্ছে এমবাপ্পে বনাম রোনালদোর দ্বৈরথ। এনিয়ে পর্তুগাল মিডফিল্ডার বার্নার্ডো সিলভা বলেছেন, ‘এটা কিলিয়ান ও ক্রিস্টিয়ানো নয়, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের লড়াই। তারা দুজনেই অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়। ক্রিস্টিয়ানো ফুটবলের অন্যতম সেরা। কিলিয়ান এখনও তার ক্যারিয়ারের শুরুতে কিংবা মাঝপথে। তবে এটা তাদের দ্বৈরথ নয়। পর্তুগাল হিসেবে আমরা সেমিফাইনালে উঠতে চাই।’
২০১৬ সালের ফাইনালের পর গত ইউরোতেও দুই দলের দেখা হয়েছিল গ্রুপ পর্বে। তিন পেনাল্টি গোলের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ২-২ এ। মাঝে দুইবার উয়েফা নেশনস লিগ খেলে একটি ড্র অন্যটি জিতেছে ফ্রান্স। গত ১৪ বারের দেখায় পর্তুগালের বিপক্ষে তারা একবারই হেরেছে, ২০১৬ সালের সেই ফাইনালে।
মুখোমুখি হওয়ার আগে দুই দলই গোলমুখের সামনে ধুঁকছে। ইউরোপের মঞ্চে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে ওপেন প্লে থেকে কোনও গোল করতে পারেনি ফরাসিরা। এই আসরে তাদের তিন গোলের দুটি হয়েছে আত্মঘাতী, অন্যটি এমবাপ্পের পেনাল্টিতে।
স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে নিন্দনীয় পারফরম্যান্স করেও টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল। গত দুটি ম্যাচে গোল পায়নি তারা। কোনও মেজর টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচ গোল করতে কখনও ব্যর্থ হয়নি তারা। এবার সেই লজ্জা পেতে যাচ্ছে কি না, দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে রোনালদোর গোলখরাও ভাবাচ্ছে পর্তুগিজদের। বিশ্বকাপ বা ইউরো মিলে সবশেষ আট ম্যাচে কোনও গোল করতে পারেননি তিনি। অথচ ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের মধ্যে ৯টি মেজর টুর্নামেন্ট ম্যাচে ১০ গোল করেছেন তিনি!
ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রোনালদো নিজের খোলস ছেড়ে বের হতে পারেন কি না, সেই প্রতীক্ষায় আছেন ভক্তরা। অন্যদিকে ফ্রান্সও গোলের দেখা পেতে মরিয়া। দুই দলই নিজেদের চেনা রূপে ফিরলে এক ঝাঁজালো ম্যাচ দেখতে যাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীরা।