সাফজয়ী সাবিনাদের সংবর্ধনায় যা বললেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

তিন ঘণ্টা ছাদখোলা বাসে চড়ে বাফুফে ভবনে আসে সাফ জয়ী নারী ফুটবল দল। সেখানেও উৎসবমুখর পরিবেশ। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ফুল দিয়ে সাফজয়ীদের বরণ করে নেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। পরে সাবিনাদের হাতে এক কোটি টাকার চেক তুলে দিয়ে নানা আশাব্যঞ্জক কথাও শোনালেন।

ক্রীড়া উপদেষ্টা শুরুতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দেশে ফেরার পর তাদের সংবর্ধনা জানাতে আমি বাফুফেতে এসেছি এবং আপনারা জানেন আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সঙ্গে দেখা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আগামী শনিবার সকাল ১১টায় তিনি তার বাসভবনে নারী ফুটবল দলকে দাওয়াত করেছেন। মেয়েরা সেদিন স্যারের সঙ্গে দেখা করবেন।’

এক কোটি টাকা পুরস্কার তুলে দিয়ে আসিফ বলেছেন, ‘নারী ফুটবল দলের এই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্জন এবং জাতিকে  এমন সুন্দর একটা বিজয় উপহার দেওয়ার জন্য আমরা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নারী ফুটবল দলকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছি এবং একই সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও একটা পুরস্কার (২০ লাখ টাকা) ঘোষণা করেছে তাদের জন্য।’

নেপালে ফাইনালে বাংলাদেশ ২-১ গোলে জিতে ট্রফি জয় করেছে। ফাইনালের কথা তুলে ধরে ক্রীড়া উপদেষ্টা বললেন, ‘নেপালের স্টেডিয়ামের সমর্থকরা তাদের দলকে সমর্থন জানিয়ে যে চিৎকার করছিল, সেটার বিরুদ্ধেও তারা দারুণ আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনায় তাদের আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দেশবাসী যেভাবে তাদের বরণ করে নিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

বৈষম্য নিয়ে পরিষ্কার বার্তা দিলেন আসিফ, ‘আপনারা জানেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ও বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের মধ্যে কিছু বৈষম্য ও সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে কিছু অভিযোগ আছে। আমরা সেগুলো জেনেছি এবং সেই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে বাফুফের সঙ্গে কথা বলেছি। বিসিবির সঙ্গেও কথা বলছি। এই বিষয়গুলো আমরা দ্রুতই সমাধান করতে পারবো বলে আশা রাখছি। আগামী দিনে বাংলাদেশের নারীরা যেভাবে আন্তর্জাতিক অর্জন ছিনিয়ে আনবে, আশা করি আরও বড় কোনও টুর্নামেন্ট, আরও বড় কোনও শিরোপা তারা ছিনিয়ে আনবে বলে আমরা আশাবাদী। এ ব্যাপারে যেকোনও ধরনের সহায়তা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করার জন্য সর্বোচ্চ সদিচ্ছা আছে এবং সামনের দিনে আমরা এগুলো করবো।’

খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কথা বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, ‘খেলোয়াড়রা সবসময় আমাদের কাছ থেকে একটা জিনিসই চাইতে পারে, সেটা হচ্ছে উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা এবং সঠিকভাবে যাতে তারা খেলার উন্নতি করতে পারে সেই সুযোগটা যাতে মন্ত্রণালয় কিংবা ফেডারেশনগুলো করে দেয়। এগুলো করতে আমাদের সদিচ্ছা আছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগও আমরা নিয়েছি। অ্যাডভান্স লেভেল ট্রেনিংয়ের জন্য ইনস্টিটিউট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এক্ষেত্রে ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে কিংবা বিসিবি, বাফুফের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে থাকি, সেগুলো বৃদ্ধি করতে হবে। স্টেডিয়ামগুলোর সংস্কারকাজ চলমান আছে। আমরা বড় একটা স্পোর্টস ভিলেজ গড়ার কথা ভাবছি। যেখানে সব ফেডারেশনকে জায়গা করে দিতে পারবো। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে পারবো।’

নিজের আরব আমিরাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ বললেন, ‘আমি যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলাম, সেখানে স্পোর্টস অ্যাকাডেমি দেখেছি এবং স্বপ্ন আছে বাংলাদেশেও যাতে এরকম একটা স্পোর্টস ভিলেজ করতে পারি। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করবো। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম বাফুফের বাজেট মন্ত্রণালয় আটকে রেখেছিল এবং বাফুফের সঙ্গে মন্ত্রণালয় কিংবা বিসিবির যে সাপে নেউলে সম্পর্ক, স্পোর্টসে তো এরকম হওয়া উচিত না। এখানে কোনও রাজনীতি হওয়া উচিত না। স্পোর্টসকে একটা ইউনিফাইড জায়গা থেকে দেখতে হবে। আজকে জেতার পর বিসিবি একটা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আমরা স্পোর্টসকে এক জায়গায় দেখতে চাই এবং সার্বিক স্পোর্টসের উন্নয়নে যাতে সবাই এক জায়গায় এসে কাজ করতে পারি, সেটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’