‘আমি তাদের পাগল বলতাম’

এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ এবারই প্রথম মাঠে গড়িয়েছে। তাতে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু আশাতীত কিছুই করতে পারেনি তপু-সাদ-জিকোরা। গ্রুপে টানা তিনটি ম্যাচই হেরেছে। এর মধ্যে সাবেক কোচ অস্কার ব্রুজনের বর্তমান দল ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪ গোলে হার ছিল। এছাড়া ভুটানের পারো এফসির কাছে এগিয়ে থেকেও হারের কথাও বলতে হবে। এমন ব্যর্থ মিশন শেষে কিংস আগেই দেশে ফিরেছে। আগামীকাল থেকে ঘরোয়া ফুটবলের জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে। তবে তার আগে দলের রোমানিয়ান কোচ ভ্যালেরি তিতা নতুনভাবে শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

কিংসের কোচ এখনও এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ব্যর্থতার কাটাছেঁড়া করেছেন নানানভাবে। গ্রুপে টানা তিনটি ম্যাচ হারবেন তা নিজেও চিন্তা করেননি। তাই তো বাংলা ট্রিবিউনের কাছে তিতা বলেছেন,‘সত্যি বলতে কী, ভুটানে টুর্নামেন্টের আগে আমাকে যদি কেউ বলতো, আমি এই ফল অর্জন করতে পারবো না এবং দুটি আত্মঘাতী গোলে হারবো, তাও আবার তিন ম্যাচে দুটি! আমি তাদের পাগল বলতাম।’

আবার বাস্তবতাকে মেনে না নিয়ে তো উপায় নেই। এএফসি কাপে সফল একজন কোচ তিতা। ভুটানে এই প্রথম বাংলাদেশের কোনও ক্লাব স্বাগতিকদের কাছে হারলো। সবমিলিয়ে কোনও ম্যাচ থেকে পয়েন্ট না পাওয়াটা তার জন্য কষ্টের। তার ক্যারিয়ারে এমন ঘটনা ঘটেনি বলে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘কিন্তু দেখুন, ফুটবলে সব সম্ভব। আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একজন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে অনেক ম্যাচে ছিলাম, কিন্তু এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা কখনও দেখিনি কিংবা শুনিনি। দুটি ম্যাচে আত্মঘাতী গোলের কারণে হার এবং এত এত সুযোগ নষ্ট করা, তিন ম্যাচে ১৬টি! ম্যাচের অনেক মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে আধিপত্য দেখিয়েও মাত্র একটা গোল! আমি এমনটা দেখিনি। এটাই ফুটবল।’

কিংসে এবার রবিনহোর মতো উঁচুমানের বিদেশি নেই। মিগেল থাকলেও শতভাগ ফিট নন। ১২ কেজি ওজন বাড়িয়ে দলের জন্য বিপদ ডেকে নিয়ে এসেছেন। ফর্টিস থেকে খেলোয়াড় ধার করলেও সবাইকে ভুটানে খেলানো যায়নি। এক ম্যাচে ৬ জন খেলোয়াড় খেলানোর সুযোগ থাকলেও খেলানো হয়নি।

এ নিয়ে তিতার বক্তব্য, ‘আমি এই বিষয়ে নতুন করে কিছু বলতে চাই না। ভুটানে সংবাদ সম্মেলনে যা বলার বলেছিলাম। তবে এটা বলতে পারি ভুটানের ফল নিয়ে আমি অনেক হতাশ। আমি ভালো কিছুর আশা করেছিলাম।’

ঘরোয়া ফুটবল গড়াতে যাচ্ছে এই মাসে। তার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করছে কিংস। ভুটান থেকে ফিরে প্রথম অনুশীলন শুরু হবে। তিতা তাই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন, ‘আমি আশা করবো, দুর্ভাগ্যের এখানেই শেষ। নতুন করে শুরু করতে হবে।’