ঋতুপর্ণায় মুগ্ধ ভারতের তারকা, অবাক বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে ভারত। ৫টি ট্রফি তাদের ঘরে। তবে টানা দুই আসরে তাদের আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দলের তকমাটা এখন সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের শরীরে সেঁটে আছে। লাল-সবুজ দলের এমন পারফরম্যান্সে অবাক অনেকেই। ভারতের অন্যতম সেরা তারকা ও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা বালা দেবী তাদের মধ্যে একজন।

টানা দুবার ভারত সেমিফাইনালের গণ্ডি পার হতে পারেনি। ফাইনালের আগেই গ্রুপ পর্বে কিংবা সেমিফাইনালে হেরেছে বাংলাদেশের কাছে। তাই কাছ থেকে দেখা সাবিনাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে বালা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সবাইকে। ভারতের মনিপুর থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ টানা দুই আসর ধরে দারুণ খেলছে। শিরোপাও জিতেছে। এটা আসলেই অবাক করার বিষয়। এর পেছনে কারণও আছে। বাংলাদেশের মেয়েরা সারা বছর অনুশীলনে থাকে। তাদের স্থানীয় ছাড়াও বিদেশি কোচ রয়েছে। এই দলটি দেখা যাচ্ছে বছরের পর বছর এক ছায়াতলে থেকে অনেক কিছু শিখছে। তাই টেকনিক্যালি ও ট্যাকটিক্যালি তাদের ধাপে ধাপে উন্নতি হচ্ছে।’

সাবিনার সঙ্গে ঋতুপর্ণা

২০২২ সালের সাফে ছিলেন না বালা। তবে এবার খেলেও দলকে ফাইনালে নিতে যেতে পারেননি। ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। জুনিয়র ও সিনিয়র মিলিয়ে তা শতাধিক। ভারতের নারী ফুটবলের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। অনেক বছর আগে থেকে তাদের সেখানে নারী ফুটবলের প্রচলন। নিজ দেশের ব্যর্থতার কারণও জানালেন বালা, ‘আমরা সাফের আগে বেশি সময় ধরে অনুশীলন করতে পারিনি। কখনও ৫ দিন, আবার কখনও ২১ দিন। যা আমাদের দলের বন্ধনে সমস্যা হয়েছে। এবার তো নেপালের কাছে কোন পরিস্থিতিতে হেরেছি তা সবাই দেখেছেন। সব মিলিয়ে আমাদের ফাইনালে খেলা হয়নি।’

বাংলাদেশের খেলা যেমন চোখে পড়েছে, তেমনই ফাইনালে জয়সূচক গোলদাতা ঋতুপর্ণা চাকমার খেলা মনে ধরেছে বালার, ‘আপনাদের ১৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় (ঋতুপর্ণা) দারুণ খেলেছে। ফাইনালে গোল করেছে বলে নয়, ওর মধ্যে একজন পূর্ণ খেলোয়াড়ের গুণ রয়েছে। যেমন বাঁ উইং ধরে দারুণ ক্রস করতে পারে, আবার বক্সে ঢুকতে জুড়ি নেই। ওর তুলনা ও নিজেই। এবার ওর খেলা দেখে আমি মুগ্ধ। ও অনেক দূর যাবে। আমি তাকে বলেছিও তা। ১৭ নাম্বার জার্সি ছাড়াও অন্যদের দেশের বাইরে লিগ খেলার সামর্থ্য আছে।’

ট্রফি নিয়ে ঋতুপর্ণা

ভারতের তারকা বালার কণ্ঠে নিজের প্রশংসা আগেই শুনতে পেয়েছেন ঋতুপর্ণা। কাঠমান্ডুর মাঠে তার সঙ্গে একই ফ্রেমে বন্দিও হয়েছেন। সাফের সেরা খেলোয়াড় তাই বলেছেন, ‘বালা দেবীর মতো খেলোয়াড় আমার প্রশংসা করেছেন, এতে আমি খুশি। উনি মাঠেই আমাকে আরও ভালো খেলার জন্য শুভকামনা জানিয়েছিলেন। আশা করছি সবার প্রেরণা থেকে সামনের দিকে আরও ভালো খেলতে পারবো।’

২০০৫ সাল থেকে বালা ভারতের জাতীয় দলে খেলে আসছেন। খেলার সুবাদে মনিপুরে ইন্সপেক্টর পদে চাকরি করছেন বালা। ভারতের দলে খেলে অন্যরকম সুবিধা পাচ্ছেন। চাকরি ছাড়াও রয়েছে বেতন কাঠামো। সামনে আরও খেলা চালিয়ে যেতে চাইছেন বালা, ‘আমি জানি না কতদিন খেলতে পারবো। তবে যতদিন ফিটনেস আছে খেলা চালিয়ে যাবো। আমি মনিপুরের মেয়ে। এখানে সবাই ফুটবল পাগল। সব জায়গায় ফুটবল হরদম হচ্ছে। তাই প্রেরণাটা এখান থেকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইছি।’

ভারতের তারকা বালার জীবন-সংগ্রাম আর শুভকামনা থেকে প্রেরণা নিতেই পারেন বাংলাদেশের মেয়েরা।