কিংস অ্যারেনাতে জয়সূচক গোল করে পাপন সিংহ আর অপেক্ষা করেননি। ম্যাচ শেষ হতেই সতীর্থদের সঙ্গে উৎসবে শামিল হয়েছিলেন। তারপর রাতেই নেত্রকোনার বারহাট্টায় নিজের পরিবারের কাছে ছুটে গেছেন। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন তার স্ত্রী-কন্যা ও মাসহ অন্যরা। মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে জয়োৎসবের পর পরিবারের সঙ্গেও আনন্দ উদযাপন করতে তর সইছিল না তার। এমনটা হওয়ারই কথা ছিল! কারণ, মালদ্বীপের বিপক্ষে পাপনের গোলটি ছিল পাথর সমান চাপ সরিয়ে স্বস্তির একটি জয়।
অথচ ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার জাতীয় দলে নিয়মিত নন। ২০২১ সালে প্রথম ইংলিশ কোচ জেমি ডের নজর কেরেছিলেন। এরপর হাভিয়ের কাবরেরা গত বছর সুযোগ দিয়েছিলেন। ফিফা প্রীতি ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে অংশ নেওয়া ক্যারিয়ারে তৃতীয় ম্যাচেই পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত গোল। শুধু কি তাই? পাপনের এখনও একাদশে শুরু থেকে খেলার সৌভাগ্য-ই হয়নি। তিনটি ম্যাচেই শেষ দিকে নেমেছেন। মালদ্বীপের বিপক্ষে তো ৮৬ মিনিটে নামার সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করে দেখিয়েছেন। এমন জয়ের পর পাপনের উচ্ছ্বাসে কোনও কমতি ছিল না। ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন,‘আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, সুযোগ পেলেই গোল করতে পারবো। সেই সুযোগ আসাতে আর অন্য দিক নিয়ে ভাবিনি। সামনে এক ডিফেন্ডার থাকা সত্ত্বেও প্লেসিং করে দিয়েছি জায়গা মতো। তাতেই বাধভাঙা উল্লাস সবার মধ্যে।’
এমনিতে প্রথম ম্যাচে মুহুর্মুহু আক্রমণ করেও বাংলাদেশ গোল পায়নি। উল্টো ম্যাচ হেরেছে। তাই কালকের ম্যাচটিতে সবার পণ ছিল যে করেই হোক ম্যাচ জিতে প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশ এতটা খারাপ দল নয়। পাপনকে নামানোর আগে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা তাই টিপসও দিয়ে দেন- কী করতে হবে। পাপনের কথায়,‘আমরা প্রথম ম্যাচে এত ভালো খেললাম, গোল পাইনি। যে কারণে হারতে হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে সবার জেদ চেপে যায়- যে করেই হোক গোল করতে হবে। ম্যাচ জিতে প্রমাণ করতে হবে আমরা ততটা খারাপ দল নই। জয়সূচক গোলটা তাই দরকার ছিল। ভালো দলের মতো যেন খেলতে পারি।’
একজন মিডফিল্ডার হয়ে বক্সের ভেতরে জায়গা মতো দাঁড়িয়ে নিখুঁত প্লেসিংয়ে করা গোলটি অনেক স্ট্রাইকার মিস করে থাকে। সেই জায়গায় পাপন ব্যতিক্রম। কীভাবে সম্ভব হলো? পাপন ফোনের অন্য প্রান্তে হেসে উত্তর দিয়েছেন এভাবে,‘আসলে আমার কাজই ছিল মধ্যমাঠ থেকে ফরোয়ার্ড পজিশনে দৌড়ে খেলা। ঠিকভাবে জায়গা নেওয়া। যখন শাহরিয়ার ইমন ক্রস বাড়াচ্ছিলেন, আমি জায়গা নিয়ে বল পেয়ে ডিফেন্ডার কিছু করার আগেই লক্ষ্যে প্লেসিং শট নেই। তাতেই চারদিকে উল্লাস। আমিও আনন্দে ফেটে পড়েছি।’
ম্যাচশেষ হতে রাকিব-তপুরা কেউ কাঁধে বা কোলে উঠিয়ে পাপনকে অভিবাদন জানিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল করে এমন অভিবাদন পেয়ে পাপন ভীষণ খুশি,‘দেখুন এমনিতে আমাদের ওপর চাপ ছিল অনেক। ঘরের মাঠে আগের ম্যাচ হেরেছি। এখন যে করেই হোক আর হারা যাবে না। তাই সুযোগ পেয়েই গোল করেছি। অনুশীলনেও এভাবে গোল করেছি। সতীর্থরা সবাই চেয়েছি যেন জিততে পারি। সেটা আমার গোলে হয়েছে বলে আনন্দটা অন্যরকম লাগছে। তাই সবাই আমাকে নিয়ে উৎসবে মেতেছিল।’
মালদ্বীপ ২৩ মিনিটে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল। মজিবর রহমান জনি বদলি নেমে দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরান। আরেক বদলি পাপন শেষ দিকে এসে দৃশ্যপট বদলেছেন। তার পরেও পাপনের দুঃখ এখন পর্যন্ত জাতীয় দলে একাদশে নিয়মিত হতে পারেননি। আবাহনীতে প্রায় নিয়মিতি খেলতে পারলেও লাল-সবুজ দলে অনেকটা ব্রাত্য থাকতে হয়েছে। পাপন মনে করছেন, এই গোলের পর হয়তো ভাগ্য খুলবে,‘আমার মনে হয় সামনের দিকে আরও খেলার সুযোগ পাবো। কোচ আমাকে ম্যাচশেষে ওয়েলডান বলেছেন। সবাই প্রশংসা করেছেন। এখন নিশ্চয়ই পরের ম্যাচগুলোতে আমাকে একাদশের জন্য বিবেচনায় রাখা হবে।’