দুই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতাকে ক্ষতিকর ও স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক বললেন বাটলার

সকাল থেকে ছিল বৃষ্টি। বসুন্ধরা কিংস এরেনার অবস্থা ছিল নাজুক। খেলার জন্য যাকে অনুপযুক্ত বলা চলে। প্রথমার্ধে ঝুঁকি নিয়েই খেলেছে বাংলাদেশ ও ভুটান। তবে পরের অর্ধের খেলা হয়েছে তিন ঘণ্টা পর পাশের আরেক মাঠে। এমন অভিজ্ঞতাকে ক্ষতিকর মনে করছেন বাংলাদেশ কোচ বাটলার। একই সঙ্গে একে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক বললেন তিনি।

বাংলাদেশ ৪-১ গোলে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ এর তিন নম্বর ম্যাচ জিতলো। তবে দুই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতায় নাখোশ বাটলার, 'গল্পটা দুই অর্ধের, তাই না? প্রথমার্ধ আর দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথমবারের মতো আমি প্রথমার্ধ শুরু করেছি এক মাঠে ও দ্বিতীয়ার্ধ শেষ করেছি আরেক মাঠে। কিন্তু এভাবে কোচিং করানো যায় না আসলে।  বিশ্বের কোথাও এনিয়ে পরিকল্পনা করা যায় না। খেলার ধরনটা ছ ‘কিক অ্যান্ড রাশ’। যা খেলার জন্য ভালো নয়।'

দুই দলই ঝুঁকি নিয়ে খেলেছে বললেন তিনি, 'আমি এখানে এসেছি খেলাটাকে এগিয়ে নিতে, এর মান বাড়াতে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার ধারা গড়ে দিতে। কিন্তু এটা (আজকের অভিজ্ঞতা) ক্ষতিকর। আমার মতে, এটি খেলোয়াড়দের স্বাসস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। খেলা শুরু হওয়ার আগে আমি রেফারি ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের বলেছি এই মাঠ খেলার অনুপযুক্ত। তবে সৌভাগ্যক্রমে তিন ঘণ্টা পর  তারা একটি বাস্তব সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। খেলা আরেকটা মাঠে সরিয়ে নেওয়াটা ছিল কমনসেন্স। আমি আনন্দিত যে, আমরা খেলা শেষ করতে পেরেছি এবং দ্বিতীয়ার্ধে মোমেন্টাম তৈরি করে খুবই ভালো ফুটবল খেলেছি।'

এদিন নতুন ও তরুণদের মাঠে নামানো প্রসঙ্গে ব্রিটিশ কোচ বললেন, 'আমরা একদল মেয়ে পেয়েছি, যারা লম্বা সময় ধরে কোনও ম্যাচ খেলেনি। সাগরিকাও ছিল না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম প্রথম দুই ম্যাচ খেলে পরের ম্যাচে নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের নামাব। আজ ৯জন নতুন খেলোয়াড়কে খেলিয়েছি শুরুতে এবং তাদের খেলায় আমি সন্তষ্ট। তৃষ্ণা প্রতিনিয়ত উন্নতি করছে। শান্তি দুর্দান্ত এক খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। ফাইনাল থার্ডে ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে উন্নতি দরকার উমেলার। তবে সে দুর্দান্ত এক প্রতিভা। বন্যা, রুপা ও কাননও ভালো খেলেছে। এই মাঠে খেলা খুবই কঠিন, যেখানে শট মেরে বলকে ১০ মিটার দূরেও নেওয়া যায় না, সবাই সেটা দেখেছে।'

সুরমাকে অধিনায়ক করা নিয়ে বাটলারের মত, 'সুরমাকে মাঠে ফিরিয়েছি, তাকে অধিনায়ক করেছি। সে এখনও ৯০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত  নয়। আমি তাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চাই না। ৬০ মিনিট, ৪৫ মিনিট—এভাবে খেলাতে চাই। মূল বিষয়টা হলো মোমেন্টাম ও স্কোয়াড গঠন করা, একটা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করা। আমাদের দলে দারুণ কিছু মেয়ে আছে এবং তারা উন্নতি করছে।'

এই দলের অগ্রগতিতে খুশি তিনি, 'এটা ভাবতে ভালো লাগে যখন দেখি যে বেঞ্চে স্বপ্না, মুনকি ও আফঈদার মতো খেলোয়াড় আছে। এমনকি জয়নবও। এখন হঠাৎ করেই মনে হচ্ছে স্কোয়াড বড় হচ্ছে। বড় হচ্ছে শক্তিমত্তা ও আত্মবিশ্বাসে। এই ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতির ধারা ধরে রাখতে হবে আমাদের।'