অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ দল কাল বৃহস্পতিবার বাহরাইনে যাচ্ছে। ১৮ ও ২২ আগস্টের দুটি ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক বাহরাইন। এর আগে আজ বুধবার কোচ সাইফুল বারী টিটু ও ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ টিটু প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন।
৩-৯ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামে হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব। গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও ইয়েমেন। এর আগে বাহরাইনে যাচ্ছে দল।
কাতার থেকে বাহরাইনে যাওয়ার কথা ছিল কিউবা মিচেলের। তবে শেষ মুহূর্তে জানা গেছে তিনি কিংসের সঙ্গে কাতার থেকে ঢাকায় আসছেন। কিউবা ও ইতালি প্রবাসী ফাহামিদুল ইসলামের সরাসরি ভিয়েতনামে বাছাই পর্বে খেলার কথা রয়েছে। কিংসের তপু কাতার থেকে সরাসরি বাহরাইনে যাবেন।
অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ম্যানেজার শাহীন হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘শেষ মুহূর্তে চেষ্টা করেও কিউবা মিচেলকে পাচ্ছি না। ফাহামিদুলেরও সম্ভাবনা কম। আশা করছি দুই জনকে সরাসরি ভিয়েতনামের টুর্নামেন্টে পাবো। এখন বাহরাইনে ২৩ জন ফুটবলার নিয়ে দুটি ম্যাচ খেলতে হবে।’
বাংলাদেশ দলকে টিটু ছাড়াও হাভিয়ের কাবরেরা অনুশীলন করিয়েছেন। যদিও বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হেড কোচ টিটু অন্য কথা বলছেন, ‘ব্যাপারটা এ রকম যে ফুল কন্ট্রোল না থাকলে আমি তো হেড কোচ না। আরেকটা হচ্ছে কন্ট্রোল বলতে কী বুঝি এবং প্যারামিটার কী? আমরা আগেই বলেছি হংকংয়ের বিপক্ষে অক্টোবরে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এই দলে সিনিয়র কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন। কাবরেরাও অনেক দিন জাতীয় দলে আছে। তার গেম মডেল ঠিক রাখার জন্য আসা খুব অবাক করা ব্যাপার না। কোয়ালিটি অ্যান্ড কন্ট্রোল বিষয়গুলোতে না যাওয়াই ভালো এখন। সামনে আমাদের ভিয়েতনামে টুর্নামেন্ট সেখানেই মনোযোগ।’
আমেরিকান প্রবাসী জায়ান আহমেদকে নিয়ে টিটু বলেছেন, ‘জায়ান ভালো করছে। সে কলেজ পর্যায়ে ফুটবল খেলে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। তার এই এক্সপোজার পাওয়া জরুরি।’
ভিয়েতনামে মূল টুর্নামেন্টের আগে বাহরাইনের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কোচ, ‘এখানে পূর্ণাঙ্গ দল নেই। আসল ফোকাস বাহরাইনে। সেখানে প্রস্তুতি ও দুটি খেলাও হবে। ওখানে পূর্ণ দল নিয়ে কাজ করবো। তখনই ঠিক দলের রসায়ন বোঝা যাবে। আমরা সৌভাগ্যবান বাহরাইনে ১২ দিন থাকা ও দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’
ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপু বলেছেন, ‘ওনারা দুজনেই আর কী… টিটু স্যার আমাদের যেভাবে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন ওভাবেই ট্রেনিং করেছি, তারপরে কাবরেরা আমাদের সঙ্গে একটা সেশন ট্রেনিং করিয়েছে। আমাদের যেখানে যেখানে ঘাটতি ছিল, মানে আমাদের অনুশীলনে অনেকগুলো ঘাটতি ছিল, খেলার স্ট্রাকচারে কিছু সমস্যা ছিল। সে (কাবরেরা) হয়তো ভিডিও দেখেছে ওই দিক থেকে সে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে, উৎসাহ দিয়েছে। আর বলেছে তোমরা যারা আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছো, নতুনদের উজ্জীবিত করো। কারও কোনও সমস্যা হচ্ছে না, যারা নতুন আসছে ওরাও টিমের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। সব মিলে ভালো। দুটি প্রীতি ম্যাচ খেললে দলের কম্বিনেশন অনেকটাই ঠিক হয়ে যাবে। প্রীতি ম্যাচ দুটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে।’