ফুটবলার থেকে মন্ত্রী: মেজর হাফিজ-জয়ের পর নতুন ইতিহাস আমিনুলের

রাজনীতির ময়দানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ এখন স্বাভাবিক চিত্র। ক্রীড়াবিদরাও এর ব্যতিক্রম নন। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্রীড়াবিদ থেকে সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার নজির খুবই কম। আপাতত তিনজনের স্থান হয়েছে এই তালিকায়। শুরুটা হয়েছে মেজর(অব.) হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রমকে দিয়ে। মাঝে হয়েছেন আরিফ খান জয়। আর সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার শপথ নিলেন আমিনুল হক! 

তিনজনই দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার এবং জাতীয় ফুটবলে উজ্জ্বল অবদান রেখে গেছেন।

মেজর হাফিজ: ডাবল হ্যাটট্রিক থেকে মন্ত্রিসভা

এই ধারার সূচনা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রমের হাত ধরে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন। স্বাধীনতার পর স্ট্রাইকার হিসেবে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ১৯৭৩ সালের ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগে ফায়ার সার্ভিসের বিপক্ষে ৬-০ গোলের ম্যাচে একাই ছয় গোল করে ডাবল হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব গড়েন। স্বাধীন বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে যা ছিল প্রথম।

খেলা ছাড়ার পর তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। অ্যাথলেটিকসেও ছিল তার সাফল্য; স্বাধীনতার আগে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন।

রাজনীতিতে এসে ১৯৮৬ সালে ভোলা থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে স্বতন্ত্র ও বিএনপির হয়েও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। এর আগে তিনবার মন্ত্রিত্ব পাওয়া এই রাজনীতিক নতুন সরকারেও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

আরিফ খান জয়: মাঠ থেকে মন্ত্রণালয়ে

মেজর হাফিজের পর ফুটবল থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসে মন্ত্রিত্ব পাওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি আরিফ খান জয়। জাতীয় দল ও আবাহনী লিমিটেডের সাবেক অধিনায়ক ২০১৪ সালে নেত্রকোনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আমিনুল: টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন নজির

সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের পর এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সেরা গোলকিপার আমিনুল হক। তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তবে টেকনোক্র্যাট কোটায়। যদিও মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত জানা যায়নি। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার নজির আগে কোনও সাবেক ক্রীড়াবিদের ছিল না। আমিনুল হকই এখানে প্রথম! 

মাঠের পারফরম্যান্সেও তিনি ছিলেন অনন্য। দীর্ঘদিন ঘরোয়া ফুটবলে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় ছিলেন। জাতীয় দলে এক নম্বর গোলকিপার হিসেবে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১০ এসএ গেমসে সোনাজয়ী বাংলাদেশের অধিনায়কও ছিলেন তিনি।

অন্যরা কেন ব্যতিক্রম নন

এছাড়া ক্রীড়াঙ্গন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন আরও কয়েকজন। তারা হলেন- মাহবুব হারান গিনি,আব্দুস সালাম মুর্শেদী,নাইমুর রহমান দুর্জয়,সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে তাদের কেউ মন্ত্রিত্ব পাননি। তাই এখন পর্যন্ত ফুটবলার থেকে মন্ত্রী হওয়ার ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে থাকলেন মেজর হাফিজ, আরিফ খান জয় ও আমিনুল হক।