ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যতই পার্থক্য থাকুন না কেন, চীনের বিপক্ষে শুরু থেকে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে সব প্রতিরোধ ভেঙে দুই গোল আদায় করে নেয় চীন। তাতে নারী এশিয়ান কাপের প্রথমার্ধে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা বাংলাদেশের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ড্রেসিং রুমে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ৯ বারের চ্যাম্পিয়নরা। বাংলাদেশ শুরুতে দেখে শুনে খেলে আক্রমণ নস্যাৎ করে তারপর ফাঁকে ফাঁকে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। চতুর্থ মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে চীনের লিউ জিংয়ের শট দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ১২ মিনিটে বাম দিক থেকে ওয়াং সুয়াংয়ের শট ফিস্ট করে মিলি ফেরানোর পর বল যায় চীনের এক খেলোয়াড়ের পায়ে। তার ফিরতি পাসে ওয়াংয়ের হেড পোস্টের বাইরের দিকে লেগে বেরিয়ে গেলে হতাশ হতে হয় তাদের। এদিন পিটার বাটলার অভিজ্ঞ গোলকিপার রুপনা চাকমার জায়গায় মিলি আক্তারকে রেখে একাদশ নির্ধারন করেছেন।
দুই মিনিট পরই চোখ ধাঁধানো এক গোলের উচ্ছ্বাসে ভাসতে পারতো বাংলাদেশ। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ঋতুপর্ণার শট অনেকটা লাফিয়ে টোকা মেরে কোনওমতে ক্রসবারের উপর দিয়ে বের করে দেন চীন গোলকিপার চেন চেন।
১৯ মিনিটে ওয়াংয়ের শট আটকাতে গিয়ে কিছুটা তালগোল পাকিয়ে বসেছিলেন মিলি। তবে এ দফায় গড়িয়ে গড়িয়ে পোস্টের দিকে যাওয়া বল ছুটে এসে ক্লিয়ার করেন শিউলি আজিম। এরপরই উরিগুমুলার শট তড়িৎ পা চালিয়ে আটকে বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে যান মিলি। কিছুটা অস্বস্তি বোধ করায় মাঠে শুয়ে কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে ফের খেলা শুরু করেন তিনি। এরপরই ২৪ মিনিটে উরিগুমুলার ক্রসে ওয়াং হেডে বল জালে জড়ালে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়েছে।
কিন্তু দুর্দান্ত সব প্রতিরোধ শেষ দিকে এসে ভেস্তে গেছে। ৪৪ মিনিটে চীন অবশেষে গোলের দেখা পায়। ওয়াংশুয়াং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে ডান দিক দিয়ে জাল কাঁপান। যোগ করা সময়ে চীন আবারও এগিয়ে যায়। কর্নার থেকে গোলকিপার মিলি রুখে দেওয়ার পর জ্যাং রুইর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট এক ডিফেন্ডারের পা ছুঁয়ে জড়িয়ে যায় জালে।
বাংলাদেশ একাদশ: মিলি আক্তার ( গোলকিপার ), আফঈদা খন্দকার, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, নবীরন, কোহাতি কিসকু, উমহেলা মারমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও শামসুন্নাহার (জুনিয়র)।