২০১২ সালের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাহউদ্দীনের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মঈন উদ্দীন খান। তবে পারিপার্শ্বিকতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
আজ শনিবার ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে মঈন বলেন,‘ আমার বড় ভাই জাকারিয়া পিন্টুর শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করাই আমি নিজে। বাইপাস করা জাকারিয়া পিন্টু যে শারীরিক অবস্থায় ছিলেন, সেখানে বাফুফে সভাপতির পদে থেকে কাজের চাপ নেওয়ার উপযুক্ত ছিলেন না। ৭৩ বছর বয়সে এই পদের জন্য শরীর উপযোগী নয় বলেই তার পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ দিয়ে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করা হয়।’
মঈন উদ্দীন খান আরও বলেন , ‘আমি ফুটবলার ছিলাম। সালাহউদ্দীনের বন্ধু ছিলাম। পিন্টু ভাই নির্বাচন করবেন বলে আমি রাগ করেছিলাম। কারণ তিনি অসুস্থ ছিলেন। এত চাপ তিনি নিতে পারবেন না তাই। একদিন সালাহউদ্দীন আমাকে তার রুমে নিয়ে গেলো। সে বললো, অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছ। তুমি এখানে আসায় খরচ হয়েছে। ২৫ হাজার টাকা রাখ। আমি রাজি হইনি। সালাহউদ্দীন আমাকে জোর করে পকেটে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর দু’লাখ টাকা নিয়ে ঘুরেছে কিন্তু আমি নেইনি। তবে খরচের কথা বলে অন্য আরেকজনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল সালাহউদ্দীন। এর বাইরে কোনও টাকা আমি কিংবা বড় ভাই নেইনি।’
এসময় জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ‘ফিফা নির্দেশনায় আছে ৭২ বছরের বেশি বয়স্ক কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না, আমার বয়স তখন ৭৩ হয়ে যাওয়াতে আমি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমাকে সালাহউদ্দীন টাকা দিয়েছে এটি সম্পূর্ণ ভুল। আমি কোনও টাকা নেইনি। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবে ৭৭ বছর বয়সে আমাকে এই অপবাদ শুনতে হলো। আমি সালাহউদ্দীনকে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি। তাকে তার সতীর্থ খেলোয়াড়দের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়ার অনুরোধ করছি। আমি টাকা নিয়েছি এটি প্রমাণ করতে না পারলে তাকে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধও করছি।’
/আরএম/এফআইআর/