বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে কানাডা। নিজেদের মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে শুক্রবার রাত ১টায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে তারা। ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে অবশ্য কানাডা তাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও আয়োজন করবে।
দুই দলই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে। তবে স্বাগতিক কানাডার ওপর চাপটা একটু বেশিই। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছে কানাডা। ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ছয় ম্যাচের সবগুলোতেই হেরেছে তারা। ফলে এবার তাদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য।
কোচ জেসি মার্শের অধীনে সেই আত্মবিশ্বাস এরই মধ্যে সঞ্চার হতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দলকে কোপা আমেরিকার অভিষেক আসরে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হলেও নতুন করে আত্মবিশ্বাস পেয়েছে উত্তর আমেরিকার এই দেশ।
তবে বিশ্বকাপের আগে চোট সমস্যা কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে তাদের। দলের অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বসনিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। গত মাসে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে এই চোট পান তিনি।
ডেভিসের অনুপস্থিতির সঙ্গে যোগ হয়েছে মার্সেলো ফ্লোরেসের চোট। মেক্সিকোর হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও কানাডাকে বেছে নেওয়া এই মিডফিল্ডার মে মাসে হাঁটুর চোটে পড়ে পুরো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। ডেভিসকে অবশ্য গ্রুপ পর্বের কাতার ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পাওয়ার আশা করছে কানাডা। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের দায়িত্ব থাকবে দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা জোনাথন ডেভিডের কাঁধে। ৩৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ডের দিকেই তাকিয়ে থাকবে কানাডা।
এদিকে ২০২২ বিশ্বকাপ চোটের কারণে মিস করা গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো এবার বিশ্বকাপ মঞ্চে নামার সুযোগ পাচ্ছেন। গত সপ্তাহে তাকে কানাডার প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ঘোষণা করা হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের মাত্র ১৫ দিন আগে এমএলএস কাপ ফাইনালে পা ভেঙে যাওয়ায় সে সময় খেলতে পারেননি তিনি।
তাদের প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাও কম অভিজ্ঞ নয়। ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ‘ড্রাগনরা’। এবারই প্রথম তারা কানাডার মুখোমুখি হচ্ছে। দলের নেতৃত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এদিন জেকো। ২০১৪ বিশ্বকাপে বসনিয়ার হয়ে খেলা মাত্র দুই ফুটবলারের একজন তিনি। তরুণদের নিয়ে গড়া দলটির জন্য তিনি শুধু অধিনায়কই নন, একজন অভিভাবকের ভূমিকাও পালন করছেন।
বসনিয়ার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা জেকো এবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪০ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের একজন। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে তার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে দলটি।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপ দলে থাকা আরেকজন খেলোয়াড় হচ্ছেন ডিফেন্ডার সিয়াদ কোলাসিনাচ। তার অভিজ্ঞতাও দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বি গ্রুপ ওপেনারের ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি।