নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২ হাজার দর্শকের সামনে বিশ্বকাপের এই মহারণ শেষ হলো অমীমাংসিতভাবে। ১০০ মিনিটেরও বেশি খেলার পর রেফারি শেষ বাঁশি বাজালেন। স্কোরলাইন যেখানে ছিল সেখানেই থামলো, ১-১। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল পয়েন্ট হারালো, আর ২০২২-এর সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো গ্রুপের শীর্ষদাবিদারকে আটকে রেখে প্রমাণ করলো— আটলাস লায়ন্স কোনও সফট ওপেনার নয়।
প্রথমার্ধ: সাইবারির বিদ্যুৎ, ভিনিসিয়ুসের জবাব
কিকঅফ থেকেই মরক্কো আক্রমণাত্মক। ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠ থেকে বারবার ব্রাজিলের রক্ষণ কাঁপাচ্ছিলেন। ৭ মিনিটে এল আইনাউইর শট ব্লক করলেন ব্রুনো গুইমারেস।
১৭ মিনিটে মরক্কো এগিয়ে গেল। দিয়াজের অসাধারণ থ্রু বলে সাইবারি পেলেন আলিসনকে একা। গোলরক্ষক এগিয়ে এলেন, কিন্তু সাইবারি ঠান্ডা মাথায় তাকে লব করে বল জালে পাঠালেন। কাউন্টারের পাঠ্যবইয়ের গোল।
৩২ মিনিটে জবাব এলো। রাফিনহার পাস পেয়ে বক্সের বাঁ দিকে একা ভিনিসিয়ুস। ডান পায়ে কেটে এসে টপ কর্নারে অসাধারণ কার্লড শট, বউনো হাত বাড়িয়েও ছুঁতে পারলেন না। ব্রাজিলের হয়ে এটি তার ৫০তম ক্যাপ, এবং মুহূর্তটাকে করলেন ইতিহাসময়।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ক্যাসেমিরো ও ইবানিয়েজ হলুদ কার্ড পেলেন। ৪৫+১ মিনিটে পাকেতার অ্যাক্রোবেটিক সিজার কিক বউনো দুর্দান্তভাবে বাঁচালেন। বিরতিতে ১-১।
দ্বিতীয়ার্ধ: ব্রাজিলের চাপ, মরক্কোর দুর্গ
বিরতির পরেই আনচেলোত্তি দুটি পরিবর্তন আনলেন, কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা ক্যাসেমিরোর বদলে ফাবিনহো, ইবানিয়েজের বদলে দানিলো। ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য বিস্তার করলো, মরক্কোকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখলো।
৬৭ মিনিটে গুইমারেসের ক্রসে রাফিনহা সামান্যের জন্য পৌঁছাতে পারলেন না। ৭৮ মিনিটে রাফিনহার শট বউনো ব্লক করলেন। শেষ মিনিটগুলোতে আলিসনকে দুটি কঠিন সেভ করতে হলো, বাইরে থেকে একটি কার্লার এবং ক্লোজ রেঞ্জের একটি শট।
ভিএআরও একবার হস্তক্ষেপ করলো, ব্রাজিলের একটি কর্নারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিলো, বল শেষ ছোঁয়া ছিল ব্রাজিলেরই।
মরক্কো শেষদিকে সাইবারিকে তুলে নিলেন, রাহিমিকে নামালেন। ১০ মিনিটের বেশি অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের কেউ গোল পেলো না। রেফারির শেষ বাঁশিতে মেটলাইফ স্টেডিয়াম স্তব্ধ।
মরক্কো প্রথমার্ধে এক্সপেক্টেড গোল তৈরি করেছিল ব্রাজিলের (০.৮৫) চেয়ে বেশি (১.২২)— পরিসংখ্যানে এগিয়ে তারা। কিন্তু ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল রাখলো ও বেশি চাপ দিলো। শেষমেশ পয়েন্ট ভাগাভাগি।
গ্রুপ ‘সি’-তে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচগুলোতে তিন পয়েন্ট না পেলে শীর্ষে থাকা কঠিন হবে দুই দলের জন্যই।