উৎকণ্ঠায় নেইমার, চাপ যেন আরও বাড়লো

বিশ্বকাপের জন্য নিউজার্সিতে ক্যাম্প করেছে ব্রাজিল। কিন্তু অনুশীলনে দলের সঙ্গে নেই দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। সাংবাদিকরা রেড বুলসের মাঠে গিয়ে নেইমারের খোঁজ পা্চ্ছিলেন না। পরবর্তী সময়ে জানা গেলো চোটের কারণে দলের অনুশীলনে নেই ৩৪ বছর বয়সী তারকা। তবে রেড বুলসের মাঠে নেইমারকে না পাওয়া গেলেও আজ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ঠিকই ক্যামেরা তাকে খুঁজে নিয়েছে। বেঞ্চে অন্যদের সঙ্গে জায়গা হয়েছে নেইমারের। দর্শকদের অনেকেই দূর থেকে খুঁজে নিয়েছেন তাকে। 

শুরু থেকে উৎকণ্ঠায় দেখা গেছে তাকে। বিশেষ করে যখন মরক্কো শুরু থেকে চেপে ধরছিল। এরপর ১৭ মিনিটে মরক্কো এগিয়ে গেলো। মধ্যমাঠ থেকে ব্রাহিম দিয়াজের অসাধারণ থ্রু বল পেলেন সাইবারি। আলিসন বেকার গোল লাইন ছেড়ে এগিয়ে এলেন, কিন্তু সাইবারি ঠান্ডা মাথায় আলতো টোকায় বল জালে পাঠালেন। ব্রাজিল শিবিরে তখন চরম হতাশা।

অন্যদের সঙ্গে হতাশ নেইমারও। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রাজিল গোল না পাওয়ায় নেইমারকে তো জায়গা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। 

ব্যবধান বাড়াতে পারতো ব্রাজিল। ডগলাস সান্তোসের ক্রস থেকে পাকেতা বাম পায়ের বাকানো শট নিলেন, ব্যুনো অসাধারণ সেভ করে কর্নারে পাঠালেন। সেই কর্নার থেকেও কিছু হলো না।  তাই হতাশ নেইমারও। 

নেইমার জুনিয়র ১২৬ ম্যাচে ৭৯টি গোল করে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।

গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সান্তোস ক্লাবের হয়ে খেলার সময় ডান পায়ের কাফ মাংসপেশির চোটে পড়েন। এই গ্রেড-২ চোটের কারণে তিনি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলতে পারছেন না। চলছে তার রিকোভারি সেশন।

আজ দল যখন জয়ের খোঁজে ছিল তখন নেইমার হয়তো ভাবছিলেন খেলতে পারলে কিছু একটা হতে পারতো। ব্রাজিল এবারই প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ড্র করলো তা কিন্তু নয়। 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল সর্বশেষ ড্র করেছিল ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। ২০১৪ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল মেক্সিকো।

এর আগে ১৯৭৪ বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ব্রাজিল। এরপর ১৯৭৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষেও ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

ঠিক এই অবস্থায় ড্র ম্যাচ দেখে বেঞ্চে বসে নেইমারের আফসোসটা বেড়েছে খেলতে না পেরে। তাই পরের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে চ্যালেঞ্জটা আরও বাড়লো। কোচ আনচেলত্তি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন নেইমারকে পরের ম্যাচগুলোর জন্য অনুশীলনে পাওয়া যাবে। হয়তো তখনই নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নামবেন নেইমার। 

আর ব্রাজিলকে হেক্সা মিশনে ফিরতে হলে পরের ম্যাচ জিততেই হবে। ফিরতে হবে নেইমারকেও। চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে বেঞ্চে বসে থাকতে নিশ্চয়ই কারও ভালো লাগার কথা নয়। নেইমারের বেলাতে তো আক্ষেপটা আরও বেশি। তাই এখন অপেক্ষা। নেইমার ফিরবেন। ব্রাজিলও ফিরবে চিরচেনা জয়ের ছন্দে।