বিশ্বকাপ ঘিরে চাপ ও বিতর্ক, তবু মাঠে মনোযোগ ইরানের

রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভিসা জটিলতা এবং শেষ মুহূর্তে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিবর্তনের মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বিশ্বকাপে অংশ নিতে এসেছে ইরান। তবে এসব বিতর্ক ও চাপকে পাশ কাটিয়ে মাঠের খেলায় মনোযোগ ধরে রাখতে চান দলের কোচ আমির গালেনোয়ি। তার কথায়, ‘আমরা এখানে ভালো ফুটবল খেলতে এসেছি, চারপাশের কোনো বিষয় বা বিতর্কে মন দিচ্ছি না।’

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন গালেনোয়ি। তবে এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার দল মাঠের খেলাতেই মনোযোগী থাকবে বলে জোর দিয়েছেন তিনি। সোমবার সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। এর আগে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে গালেনোয়ি বলেন, ‘আমরা এখানে একটি ভালো ও উচ্চমানের ম্যাচ খেলতে এসেছি। আমাদের চারপাশে যা কিছু ঘটছে বা যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলোর দিকে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।’

দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। সেই পরিস্থিতিতে ইরানের কিছু স্টাফকে ভিসা না দেওয়ায় বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটে। এমনকি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে যুদ্ধরত একটি দেশের অংশগ্রহণ এবারই প্রথম।

ম্যাচ ঘিরে স্টেডিয়ামের বাইরে ইরানি প্রবাসীদের একটি অংশের বিক্ষোভেরও পরিকল্পনা রয়েছে। দেশটির সরকারের বিরোধিতাকারীরা সেখানে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারবিরোধী ব্যানার প্রদর্শন করা হলে ইরান দল মাঠ ছেড়ে চলে যেতে পারে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

তবে এসব প্রসঙ্গকে গুরুত্ব দিতে নারাজ গালেনোয়ি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দলেরই নিজস্ব কিছু সমস্যা থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন অনেক কিছু ঘটে, যার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই।’

ইরানের কোচের মতে, তার দল কেবল দেশের মানুষ ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতেই বিশ্বকাপে এসেছে, ‘আমরা রাজনৈতিক মানুষ নই। ফুটবল এবং রাজনীতি আলাদা বিষয়।’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কখনও নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি ইরান। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর।