‘ব্রাজিলের জয় দেখতে এসেছি’

নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মতো ফিলাডেলফিয়াতে বিশ্বকাপের আমেজ একটু কমই। শুধু স্টেডিয়ামের চারপাশে কিছু ডিজিটাল বিলবোর্ড চোখে পড়লো। সেখানে বিশ্বকাপ নিয়ে নানান কিছু সাজানো আছে। এমনিতে আমেরিকানরা ফুটবল অন্তঃপ্রাণ নয়। বাস্কেটবল, রাগবি সহ নিজেদের খেলা নিয়েই বেশ ব্যস্ত তারা। এই তো ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের পাশেই আগের দিনই দেখা গেল সারিবদ্ধ লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই রাগবি ম্যাচ দেখতে যাচ্ছে। তবে শহরে ফুটবলে আমেজ থাকুক বা নাইবা থাকুক, স্টেডিয়াম কিন্তু দর্শকপূর্ণ। যার বড় অংশ আসছে বাইরে থেকে। অভিবাসিদের বড় অংশও রয়েছে। মানে যখন যেই দেশের খেলা থাকে, গ্যালারিতে তাদের আধিক্য বেশি। ফিলাডেলফিয়ার মাঠে একটু পর শুরু হতে যাওয়া ম্যাচকে ঘিরে উন্মাদনা কম নয়। হলুদ জার্সিধারিদের ভিড় তো রয়েছেই। পাশাপাশি হাইতি দর্শকরাও রয়েছে। আবার অন্য দেশের জার্সি পরে খেলা দেখতে অনেকেই আছেন।

মাঠে ঢোকার আগেই ব্রাজিলিয়ান ভক্ত রড্রিগুয়েজের সঙ্গে কথা হচ্ছিলো। তিনি জানালেন, ‘আগের ম্যাচে ব্রাজিল জিততে পারেনি। আজ আশা করছি জিতবে। হাইতি তো বড় শক্তির দল নয়। আমার মনে হয় আজ ব্রাজিল সহজেই জিততে পারবে।’ পুরো স্টেডিয়াম উৎসবমুখর অবস্থা। হলুদ জার্সি পড়ে নিজ দলকে উৎসাহ দিতে আসা দ্যানিয়েলের আশা, ‘আজ ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জিতবে্। এমনকি ভিনিসিয়ুস হ্যাটট্রিকও পেতে পারে। আমরা ব্রাজিলের জয় দেখতে এসেছি। আশা করছি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা আমাদের হতাশ করবে না।’

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৭ ধাপ এগিয়ে থাকা ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি সহজ ধরা হচ্ছে। তবে কোচ আনচেলত্তি কিন্তু সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে নিচ্ছেন না। কেননা এই বিশ্বকাপে সহজ প্রতিপক্ষরা কিন্তু বড় শক্তির দেশকে আটকে দিচ্ছে। তাই সতর্ক লুলা সিলভাও, ‘আমার কাছে মনে হয় ব্রাজিল নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে হাইতির বিপক্ষে জয় নিশ্চিত হবে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হলেই হয়।’

ব্রাজিল যেমন স্বপ্ন দেখছে প্রথম জয় নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথ সুগম করতে। তেমনি হাইতি বড় কোনও হুঙ্কার দিচ্ছে না। তবে অঘটন কে না চায়। কেভিনস নামে তাদের সমর্থক বললেন, ‘সবাই দলের জয় দেখতে চায়। তবে ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে জয় পাওয়া বেশ কঠিন। আবার পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়াটাও। তবে আমি আশা করবো আমাদের জন্য লড়াই করতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারলে তখন ভালো লাগবে।’

ব্রাজিল আজ কী করতে পারে- এ নিয়ে সারা বিশ্বে তাদের অগনিত সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। আবার হাইতি এতো বছর পর বিশ্বকাপে এসে দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট নিতে পারলে তা হবে ইতিহাস। তাই এখন দেখার ফিলাডেলফিার মাঠে সমর্থকদের গর্জনে কার ভাগ্য ফেরে!