সুইডেনের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কোচ বদল করেছিল তিউনিসিয়া। হার্ভে রেনার্ডকে কোচ করলেও ভাগ্য আর বদল হয়নি। এবার এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তাদের। বিপরীতে নকআউটের পথে বড় এক ধাপ এগিয়েছে জাপান।
নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিয়ে প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল জাপান। চারবারের এশিয়ার চ্যাম্পিয়নরা এবার বিশ্বকাপ মঞ্চে গড়েছে ইতিহাস। এবারই প্রথম বিশ্বকাপে চার গোলের দেখা পেয়েছে। শুধু কি তাই? ২০১৪ সালের পর এবারই প্রথম ক্লিন শিট ধরে রাখতে পেরেছে তারা।
মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটা ছিল মাইলফলকের। বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ ছিল তা। আর সেই ম্যাচের শুরু থেকে আধিপত্য দেখিয়েছে জাপান। অগ্রগামিতা পেয়েছে মাত্র চার মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে। দ্রুতগতির এক প্রতি আক্রমণ থেকে মিডফিল্ডার দাইচি কামাদা কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে জাপানকে লিড এনে দেন।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয় আঘাত হানে জাপান। ৩১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আয়াসে উয়েদার নিখুঁত শট এক ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক গলে জালে জড়িয়ে যায়।
পুরো ম্যাচজুড়ে দিশেহারা ছিল তিউনিসিয়া। আক্রমণে ছিল না কোনও ধার। মাঝমাঠেও ছিল না নিয়ন্ত্রণ। বিপরীতে জাপান পর্যাপ্ত জায়গা পেয়ে নিজেদের চেনা স্টাইল পাসনির্ভর ও ছন্দময় ফুটবল উপহার দিয়েছে। তাতে দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট অব্যাহত থাকে। ৬৯ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান জুনিয়া ইতো। এককভাবে গোলরক্ষক আইমেন দাহমেনের মুখোমুখি হয়ে সহজ ফিনিশে গোল করেন তিনি। এরপর উয়েদা ৮৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
এফ গ্রুপে এখন ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান ম্যাচে জাপানেরও সংগ্রহ ৪। তাদের অবস্থান দুই নম্বরে। কিন্তু গোল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ডাচরা। ৩ পয়েন্ট নিয়ে সুইডেন তিন নম্বরে।
সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে অন্তত পরের পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল জাপানের। তবে কোনও সমীকরণের অপেক্ষায় না থেকে শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে তারা এখন শুক্রবারের সুইডেন ম্যাচের দিকে তাকিয়ে।