জার্মানিকে হারানোর পর প্যারাগুয়েতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল জানতেন, তাদের দলকে বড় আন্ডারডগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এমনকি প্রতিপক্ষের তারকাদের দেখে তিনিও কিছুটা মুগ্ধ হয়েছিলেন। তবে ২৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক, যিনি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছেন, টাইব্রেকারে জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে ছাপিয়ে গেছেন শেষ পর্যন্ত। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মঙ্গলবার দেশজুড়ে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছে প্যারাগুয়ে সরকার।

জয়ের পর সোমবার রাতে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা মঙ্গলবারে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন।

সরকারি ঘোষণায় তিনি বলেছেন, ‘জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের ঐতিহাসিক জয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩০ জুন দেশব্যাপী জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হলো।’

অবিশ্বাস্য এই জয়ের কারিগর গিল ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, ‘আগেভাগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়—এই ম্যাচ সেটাই প্রমাণ করেছে। এটি দেখিয়ে দিয়েছে, বড় কিছু অর্জনের সামর্থ্য প্যারাগুয়ের আছে। এই সুযোগ একদিন না একদিন আসবেই।’

৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার গিল বর্তমানে আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জোর হয়ে খেলছেন। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে গ্রুপ পর্বে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারায় প্যারাগুয়ে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় দলটি।

তবে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চার গোল হজম করা গিলকে জার্মানির বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। পুরো ম্যাচে বলের দখল জার্মানির ছিল প্যারাগুয়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া জার্মানি যেখানে ২১টি শট নেয়, সেখানে প্যারাগুয়ের শট ছিল মাত্র সাতটি।

গিল বলেছেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন কোনো ভৌতিক সিনেমার মধ্যে আছি। চারদিকে শুধু জার্মান খেলোয়াড়! এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না কী হয়েছে।’

অন্যদিকে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার খেলছিলেন নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপে। ২০১৪ সালে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জেতে জার্মানি। একই বছর ব্যালন ডি'অর পুরস্কারের ভোটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির পর তৃতীয় হন তিনি। এছাড়া বায়ার্ন মিউনিখকে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ১৩টি বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতিয়েছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

নয়্যারকে নিয়ে গিলের কথা, ‘তিনি বিশ্বমানের একজন গোলরক্ষক। তার বিপক্ষে টাইব্রেকারে খেলেছি, তিনিও একটি পেনাল্টি ঠেকিয়েছেন। তার মতো একজন আইডলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’