জার্মানির বাতিল গোল নিয়ে বিতর্ক, ভিএআর নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্লপ

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। তবে অতিরিক্ত সময়ে জনাথান টাহর করা গোলটি ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হওয়ায় ম্যাচের পর শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন জার্মানির কিংবদন্তি কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তার সঙ্গে একমত হয়েছেন দুই সাবেক রেফারিও।

অতিরিক্ত সময়ে টাহর করা গোলটি বহাল থাকলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হলেও হতে পারতো। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে কর্নার থেকে হেডে বল জালে পাঠান এই সেন্টার-ব্যাক। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করেন রেফারি। তার মতে, গোলের আগে জার্মান ডিফেন্ডার ভালদেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ফাউল করেছিলেন।

ম্যাচ শেষে ম্যাজেন্টাটিভিকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জার্মানির কোচিং কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লপ এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তার দাবি, এমন পরিস্থিতি থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল অসংখ্য গোল করেছে, ‘যদি এই গোলটি অবৈধ হয়, তাহলে আর্সেনাল কখনোই ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন হতে পারতো না। তারা প্রায় ৬০ শতাংশ গোলই এমন পরিস্থিতি থেকে করেছে। তাই এই সিদ্ধান্ত সত্যিই খুব কঠোর।’

ম্যাজেন্টাটিভির রেফারিং বিশ্লেষক প্যাট্রিক ইটরিশও মনে করেন, ভিএআরের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন ছিল না, ‘আমার মতে, এটি রেফারির কোনো স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না। তাই ভিএআর থেকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো উচিত হয়নি। আমার দৃষ্টিতে এখানে অতিরিক্ত খুঁটিনাটি বিচার করা হয়েছে। এখানে আমি ধাক্কাধাক্কি বা ফাউলের মতো কিছুই দেখিনি।’

জেডডিএফের রেফারিং বিশ্লেষক থরস্টেন কিনহোফারও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি বাকরুদ্ধ। এই বিশ্বকাপে এর চেয়েও গুরুতর অনেক ঘটনা দেখেছি। অথচ গোলরক্ষক সঙ্গে সঙ্গেই উঠে দাঁড়িয়েছেন। এটি ছিল স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ, কখনোই ফাউল নয়।’