কেপ ভার্দে। কিছু দিন আগে এই দেশটিকে চিনতো কম। বিশ্বকাপে উঠে সবাইকে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিলো। এরপর তো সব ইতিহাস। অভিষেকেই একের পর এক চমক। গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে এখন নকআউট পর্বে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে। তবে দুই দলের লড়াইয়ের মাঝে দুই তারকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাও রয়েছে। লিওনেল মেসি বনাম ভোজিনিয়া!
একজন প্রতিটি ম্যাচে গোল করে অনন্য উচ্চতায়। আরেকজন গোল ঠেকিয়ে আলোচনায়। মেসির কথা নতুন করে বলার কিছু নাই। কিন্তু ভোজিনিয়া...। পেশাদার ফুটবল না খেলেই এখন তারকার তকমা শরীরে।
তার জন্য মেসির মতো খেলোয়াড়কে আটকানো কঠিন নাকি তা আজই পরিস্কার হবে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬ গোল মেসির, মাত্র ৩ ম্যাচে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটাও তার দখলে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার, কেপ ভার্দের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের ৩০তম ম্যাচ খেলবেন কয়েক দিন আগে ৩৯তম জন্মদিন উদ্যাপন করা আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও ২-১ পিছিয়ে পড়া, তারপর আবার ২-২ করে ফেরা। কেপ ভার্দের গল্পটা এমনই। পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়ানো। সৌদি আরবের বিপক্ষে আরেকটা ক্লিন শিট। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা সবচেয়ে ছোট দেশ এখন তারা। ভোজিনিয়া আগেই নিজেই বলেছেন, ‘আমরা ছোট, কিন্তু আমাদের হৃদয়টা বড়। আমরা লড়াকু।’
কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেস আবার চেয়েছেন, মেসিকে যেন সম্মান জানিয়ে জাতীয় দলের জার্সি উপহার দেওয়া হয়, আর তারপরই আশা প্রকাশ করেছেন, তার দেশ ১-০ গোলে হারাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
ভোজিনিয়ার স্বপ্নটা আরও নির্দিষ্ট। কেপ ভার্দে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে, খেলার শেষ দিকে পেনাল্টি পেয়েছেন মেসি নিজে। তিনি সেটা ঠেকিয়ে দিলেন। এই দৃশ্যটাই বিশ্বকাপ শুরুর আগে কল্পনা করেছিলেন ভোজিনিয়া। তার মন্তব্য ছিল এমনই- ‘সেটা যদি সেভ করতে পারি, সত্যিকারের স্বপ্নপূরণ হবে।’
এখন দেখার কেপ ভার্দের সঙ্গে ভোজিনিয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় নাকি মেসিরা এগিয়ে যাবে— তাই এখন দেখার বিষয়।