কেপ ভার্দের রূপকথা থামিয়ে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচালো আর্জেন্টিনা

মেসিদের ভাবনাতেও হয়তো এমন দৃশ্য ছিল না। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে কেপ ভার্দের মতো ছোট্ট একটি দেশ এতটা অদম্য হয়ে দাঁড়াবে, সেটি কল্পনাও করেননি অনেকেই। অথচ বিশ্বকাপের নতুন রূপকথার নায়করা নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে একসময় মেসিদের বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছিল।

কিন্তু চ্যাম্পিয়নদের পরিচয়ই যে আলাদা। প্রতিপক্ষ যতই বাধা হয়ে দাঁড়াক, সংকটের মুহূর্তে তারা খুঁজে নেয় জয়ের পথ। দীর্ঘ সময় কেপ ভার্দের সাহসী লড়াইয়ে চাপে থাকলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, ধৈর্য আর তারকাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কঠিন পরীক্ষায় উতরে গেছে আর্জেন্টিনা। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। আর তাতে কেপ ভার্দের রূপকথা  থামিয়ে আরও একবার বেঁচে গেলো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে ড্র, একটিতেও হার নয়। এরপর শেষ ৩২-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করে বিদায়। ফলাফল যাই বলুক, মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ শেষ করেছে কেপ ভার্দে।

শুধু লড়াই নয়, তাদের ফুটবলও ছিল চোখ জুড়ানো। গোছানো রক্ষণ, আত্মবিশ্বাসী ফুটবল আর সুযোগ না থাকলেও সেখান থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার অসাধারণ দক্ষতা। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে একাধিকবার কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল আফ্রিকার দলটি। বিশেষ করে অতিরিক্ত সময়ে সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত বাঁকানো শট থেকে করা গোলটি বিশ্বকাপের সেরা গোলগুলোর আলোচনায় জায়গা করে নিতেই পারে। 

এমনই এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে তারা যে আর্জেন্টিনার জিততে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে সেখানেই শেষ হাসি হেসেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ১১১ মিনিটে। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন কেপ ভার্দের দিনেই বোর্হেস। আত্মঘাতী সেই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

এর আগে ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লং পাস বক্সে বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। সেই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা আট ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তবে ৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের নিচু শটে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। এরপর একাধিকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও ভোজিনহার দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে সফল হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবে খেলা ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক মেসির ডান পায়ের শট, ফ্রি-কিক এবং অতিরিক্ত সময়ের আরেকটি সুযোগও রুখে দেন।

ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে শুরুতেই মেসির কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত ভলিতে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরালের দৃষ্টিনন্দন বাঁকানো শটে আবারও সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে।

টাইব্রেকারের সম্ভাবনা যখন উঁকি দিচ্ছিল, তখনই ১১১ মিনিটে বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে স্বস্তির জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দে আরেকটি গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা এবং ৬৭তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দের এই লড়াই পরিসংখ্যানের বিচারে বিশ্বকাপ নকআউট ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হতে পারতো। শেষ পর্যন্ত সেটি এড়িয়েই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে টিকে রইলো লিওনেল স্ক্যালোনির দল। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।