কেইন বনাম হালান্ড দ্বৈরথ: সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড-নরওয়ে

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ রাতের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ও আলোচিত ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড এবং নরওয়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসের রোমাঞ্চকর স্প্যানিশ জয়ের পর, এবার ফুটবল বিশ্বের চোখ মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি মূলত রূপ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের দুই গোলমেশিন— হ্যারি কেইন বনাম আর্লিং হালান্ডের একক দ্বৈরথে।

চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের আট গোলের ঠিক পেছনেই রয়েছেন এই দুই স্ট্রাইকার। কেইনের নামের পাশে রয়েছে ৬ গোল এবং হালান্ড করেছেন ৭ গোল। ফলে আজকের ম্যাচটি শুধু সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই-ই নয়, গোল্ডেন বুটের রেসে টিকে থাকারও তীব্র লড়াই। 

হালান্ডের মনস্তাত্ত্বিক চাল ও নরওয়ের ঐতিহাসিক যাত্রা

ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠের বাইরে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করে দিয়েছেন নরওয়েজিয়ান তারকা আর্লিং হালান্ড। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি কিছুটা কৌশলী মন্তব্য করে বলেন, “আমাদের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা ‘সত্যিই কম’— সব চাপ তাই ইংল্যান্ডের ওপর।”

হালান্ডের এই মন্তব্যকে ফুটবল বিশ্লেষকেরা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার একটি বড় চাল হিসেবেই দেখছেন। কারণ, ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে এসেই ইতিহাসের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে নরওয়ে। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের পেছনে রানার্স-আপ হয়ে নকআউটে আসা দলটি রূপকথা লিখে চলেছে। শেষ ৩২-এ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয় এবং শেষ ১৬-তে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছে তারা। এই দুই ম্যাচেই নরওয়ের ত্রাতা হয়ে জয়সূচক গোল এনে দিয়েছিলেন হালান্ড।

ব্রাজিলের বিপক্ষে দুই গোলে অ্যাসিস্ট করা তরুণ মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ আজ আন্তোনিও নুসাকে বেঞ্চে বসিয়ে শুরু থেকেই একাদশে খেলছেন। 

নরওয়ে একাদশ: ওরিয়ান নিল্যান্ড (গোলরক্ষক); ক্রিস্টোফার আইয়ের, অ্যান্ড্রেয়াস মোলার ওলফে, টরবিওর্ন হেগেম; প্যাট্রিক বার্গ, স্যান্ডার বার্গে, মার্টিন ওদেগার্ড, আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ; আলেকজান্ডার সোরলোথ, হাকন রাইসার্সন, আর্লিং হালান্ড। 

ইংল্যান্ড একাদশে দুই পরিবর্তন

অপরদিকে ১১ বার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ইংল্যান্ড অভিজ্ঞতার দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকলেও তাদের নকআউট রেকর্ড খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। অতীতে মাত্র তিনবার তারা সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে (১৯৬৬, ১৯৯০ ও ২০১৮)। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপেও এই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল থ্রি লায়ন্সরা।

আজকের ম্যাচে সাসপেনশনের কারণে ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসাহকে পাচ্ছে না ইংল্যান্ড। তার জায়গায় রাইট-ব্যাকে শুরু করছেন এজরি কোনসা এবং জন স্টোনস রক্ষণভাগে ফিরেছেন মার্ক গেহির পাশে। এছাড়া আক্রমণভাগে বুকায়ো সাকাকে বেঞ্চে রেখে ডানদিকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়েছে গতিময় নোনি মাদুয়েকেকে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে আসা ইংল্যান্ড কঙ্গোকে ২-১ এবং মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে।

মিয়ামির সোডিয়ামের আলোয় নরওয়ের ঐতিহাসিক রূপকথা দীর্ঘায়িত হবে, নাকি অভিজ্ঞ ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিট কাটবে—তা নির্ধারণ করে দেবে কেইন ও হালান্ডের বুটের ধার। 

ইংল্যান্ড একাদশ: জর্ডান পিকফোর্ড (গোলরক্ষক); এজরি কোনসা, মার্ক গেহি, জন স্টোনস, ও’রেইলি; এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ডেক্লান রাইস; নোনি মাদুয়েকে, অ্যান্থনি গর্ডন, জুড বেলিংহাম; হ্যারি কেইন।