ফাইনালের আগেই ‘ফাইনাল’, আজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স-স্পেন

বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াইয়ে আর মাত্র এক ধাপ দূরে ফ্রান্স ও স্পেন। তবে ফুটবলপ্রেমীদের চোখে মঙ্গলবারের সেমিফাইনাল যেন ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে দুর্দান্ত আক্রমণভাগ, অন্যদিকে বলের দখল ও দলীয় নৈপুণ্যে ভর করে এগিয়ে চলা স্পেন। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে আজ রাত ১টায়। 

দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে খেলেই শেষ চারে পৌঁছেছে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ছয় ম্যাচে আট গোল করে দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসে, ব্যালন ডি'অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং পিএসজির ব্র্যাডলি বারকোলা ও দেজিরে দুয়ের মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররা।

অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে নিজেদের চিরচেনা বলের দখলনির্ভর ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে স্পেন।

ফ্রান্স যেখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর ভরসা করছে, সেখানে স্পেনের শক্তি দলগত নৈপুণ্য। রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের নিখুঁত পাসিং থেকে আক্রমণ সাজিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করছেন ১৯ বছর পূর্ণ করা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল।

তাই ম্যাচটি হয়ে উঠছে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াই। স্পেন চাইবে বলের দখল ধরে রেখে এমবাপ্পেদের আক্রমণের রসদ কমিয়ে দিতে। একই সঙ্গে পরীক্ষা নিতে চাইবে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের। যাদের এখন পর্যন্ত তেমন কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও স্পেনকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল লা রোহারা। এর আগে ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালেও ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল তারা।

বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল আসন্ন লড়াই নিয়ে বলেছিলেন, ‘দুই দলই বিশ্বের সেরাদের মধ্যে। কী হবে, সেটা মাঠেই দেখা যাবে। তবে আমাদের কোনো ভয় নেই। দুটি সম্ভাবনা আছে। হয় ফ্রান্স টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠবে, নয়তো আমরা তাদের টানা তৃতীয়বার হারাবো। আমরা মোটেও ভয় পাচ্ছি না।’

ইয়ামালের বক্তব্যের সঙ্গে একমত স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও। তিনি বলেছেন, ‘ফ্রান্স দারুণ ছন্দে আছে এবং আমাদের খেলার ধরন আলাদা। প্রতিপক্ষকে আমরা সর্বোচ্চ সম্মান করি, তবে আমরা বিশ্বাস করি যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।’

অন্যদিকে ফ্রান্সও আত্মবিশ্বাসী। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবারের মতো গোল হজম করা স্পেনের রক্ষণকে চাপে ফেলতে চাইবেন এমবাপ্পেরা।

এবারের বিশ্বকাপ শেষে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব ছাড়বেন দিদিয়ের দেশম। বিদায়ের আগে দলকে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলতে চান তিনি।

সেমিফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়ে জার্মানি এবং ব্রাজিলের পর মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার কৃতিত্ব গড়েছে ফ্রান্স।

নিজের সাফল্যের রহস্য নিয়ে দেশম বলেছেন, ‘সম্ভবত খুব ভালো খেলোয়াড় পাওয়াই কারণ। তবে মনে হয় আমি খুব খারাপ কাজও করছি না। আর এটি শুধু ফুটবল নয়, মানবিক এক যাত্রাও। খেলোয়াড়দের আমি বেছে নিয়েছি, কিন্তু প্রতিদিন তাদের সঙ্গে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব সুখী, আর তাদের খেলাটা উপভোগ করতে দেখেও ভালো লাগে।’