ব্রোঞ্জ পদক, কোটি ডলারের পুরস্কার- তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গুরুত্ব কতটা?

বিশ্বকাপের তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সেমিফাইনালে হারের পর বেশিরভাগ ফুটবলার ও কোচের কাছেই এটি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ম্যাচ। তবু ‘ব্রোঞ্জ ফাইনাল’ বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ফিফার। কারণ, এই ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থনৈতিক লাভ, বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ। তার সঙ্গে রয়েছে মর্যাদারও লড়াই। 

বিশ্বকাপের ফাইনালের আগের দিন মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। স্পেন-আর্জেন্টিনার শিরোপা লড়াইয়ের আগে অনুষ্ঠিত হবে এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। ফিফা যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্রোঞ্জ ফাইনাল’ নামে ডাকে।

এই ম্যাচের জয়ী দল পাবে ব্রোঞ্জ পদকের পাশাপাশি ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার। যা চতুর্থ হওয়া দলের চেয়ে ২ মিলিয়ন ডলার বেশি।

তবে গুরুত্ব শুধু অর্থ বা পদকেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ম্যাচের ফলও যুক্ত হয় ফিফার বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে। আর সেই র‌্যাঙ্কিং ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টে বাছাইপর্বের ড্র ও সিডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দলের একটির জন্য বিশ্বকাপ শেষ করার আগে সান্ত্বনা পুরস্কার পাওয়ার এটিই শেষ সুযোগ।

বাণিজ্যিক দিক থেকেও ম্যাচটি ফিফার জন্য লাভজনক। টিকিট বিক্রি, সম্প্রচারস্বত্ব এবং ফাইনালের আগে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এবার জেনে নেওয়া যাক ইতিহাস। বিশ্বকাপে প্রথম তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৪ সালে। সেই ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জার্মানি। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে এবং ১৯৫০ সালের বিশেষ লিগভিত্তিক আসরে এই ম্যাচ ছিল না। তবে ১৯৫৪ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এই ম্যাচেই গড়া হয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের কয়েকটি স্মরণীয় রেকর্ড। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন তুরস্কের হাকান শুকুর।

১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে চার গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এক আসরে ১৩ গোলের যে রেকর্ড গড়েছিলেন, সেটিও এখনও অক্ষত।

এ ছাড়া ইউসেবিও, টোটো স্কিলাচি, দাভর শুকার ও থমাস মুলারের মতো একাধিক গোল্ডেন বুটজয়ী ফুটবলার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে নিজেদের গোলসংখ্যা বাড়িয়েছিলেন। এবারও ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে রয়েছে গোলের খাতা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ।

তবে এই ম্যাচের বিরোধিতাও দীর্ঘদিনের। নেদারল্যান্ডসের সাবেক কোচ লুই ফন গাল একে ‘যে ম্যাচ কখনোই হওয়া উচিত নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট খেলার পর টানা দুই হার নিয়ে বিদায় নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে এই ম্যাচ।

ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেটও স্বীকার করেছিলেন, ‘এটি এমন একটি ম্যাচ, যেটি কোনো দলই খেলতে চায় না।’

এ কারণেই অনেক কোচ এই ম্যাচে মূল একাদশে পরিবর্তন এনে কম সুযোগ পাওয়া ফুটবলারদের খেলান।

তবে সব দেশের জন্য এই ম্যাচ শুধুই সান্ত্বনার নয়। ১৯৯৮ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই তৃতীয় স্থান অর্জন করে উচ্ছ্বাসে ভেসেছিল ক্রোয়েশিয়া। আর ১৯৯৪ সালে বুলগেরিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হওয়া সুইডেনের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।