স্থানীয় সময় রবিবার নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দুটো প্রশ্ন একসঙ্গে ঘুরছে ফুটবল দুনিয়ায়— আর্জেন্টিনা কি শিরোপা জিতবে? আর লিওনেল মেসি কি জিতবেন গোল্ডেন বুট?
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেবে মাঠ। কিন্তু দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটা একটু জটিল। কারণ এমবাপ্পে মায়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থানের ম্যাচে জোড়া গোল করে পৌঁছে গেছেন ১০ গোলে। মেসি আছেন ৮ গোলে।
অর্থাৎ গোলের ব্যবধান ২। ফাইনালে মেসিকে গোল্ডেন বুট জিততে হলে কী করতে হবে?
সরল হিসাব: হ্যাটট্রিক করলেই কাজ হয়
সবচেয়ে সহজ পথ— ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা। তাহলে মেসির মোট গোল হবে ১১, এমবাপ্পের ১০। গোল্ডেন বুট মেসির।
কিন্তু ৩৯ বছর বয়সী মেসির কাছে ফাইনালে হ্যাটট্রিক আশা করা অনেকটাই কল্পনার জগতে থাকা। তবে অসম্ভব নয়— ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষেও তিনি দুটো গোল করেছিলেন।
টাইব্রেকারের হিসাব: এখানেই মেসির আসল সুযোগ
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দুজনের গোল সমান হলে অ্যাসিস্ট গণনা হয়। সেখানেও সমান হলে কম মিনিটে বেশি গোল— অর্থাৎ গোল প্রতি কম সময়।
এখানেই মেসির জন্য আশার আলো।
তৃতীয় স্থানের ম্যাচের আগে মেসির অ্যাসিস্ট ছিল ৪, এমবাপ্পের চেয়ে এক বেশি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটো অ্যাসিস্ট করে মেসি টাইব্রেকারে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলেছিলেন।
সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দৃশ্যকল্প হলো যদি মেসি ২ গোল করেন, তাহলে মোট গোল মেসির ১০, এমবাপ্পের ১০। টাইব্রেকার যাবে অ্যাসিস্টে। মেসি এখন পর্যন্ত ৪ অ্যাসিস্টে এগিয়ে— ফাইনালে আরেকটিও করলে তিনি নিরাপদ। কিন্তু এমবাপ্পে তৃতীয় স্থানের ম্যাচে অ্যাসিস্ট করেছেন— তাই চূড়ান্ত হিসাব নির্ভর করবে উভয় ম্যাচের সব গোল ও অ্যাসিস্টের উপর।
যদি মেসি ১ গোল করেন তাহলে মেসি ৯, এমবাপ্পে ১০। গোল্ডেন বুট এমবাপ্পের, যদি না ফাইনালেও মেসি অ্যাসিস্ট দিয়ে টাইব্রেকার জেতেন— কিন্তু গোল কম থাকলে অ্যাসিস্ট দিয়ে জেতা সম্ভব নয়।
যদি মেসি গোল না করেন তাহলে এমবাপ্পে ১০ গোলে গোল্ডেন বুট পাবেন।
২০২২-এর ইতিহাস মনে আছে?
ঠিক চার বছর আগে কাতারে একই নাটক হয়েছিল উল্টো দিক থেকে। ফাইনালে এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক করে মেসির ৭ গোলকে টপকে ৮ গোলে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। মেসি শিরোপা জিতলেন, কিন্তু গোল্ডেন বুট হাতছাড়া হলো।
এবার সমীকরণ উল্টো। মেসির সামনে সুযোগ শিরোপার পাশাপাশি গোল্ডেন বুটও জেতার। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত একটি গোল্ডেন বুটও নেই মেসির।
মেসির জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ
দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট— টাই হবে গোল্ডেন বুট জেতার সবচেয়ে নিরাপদ পথ। গোলে সমান হলেও অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকলে পুরস্কার মেসির।
অথবা স্পেনের বিপক্ষে ফ্রি-ফ্লোয়িং ফুটবলে মেসি যদি নিজের সেরাটা দেন, তাহলে তিনটি গোল অসম্ভব নয়। ২০২২ সালে ফাইনালে দুই গোল করেছিলেন, এবার এক গোল বেশি করলেই ইতিহাস।
সংখ্যার বাইরে যা বলছে ইতিহাস
মেসির বয়স ৩৯। এটি তার শেষ বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারে সবকিছুই আছে শুধু গোল্ডেন বুটটাই কখনও ছোঁয়া হয়নি।
ফাইনালে গোলও করবেন, আর্জেন্টিনাকে শিরোপাও দেবেন, এবং ক্যারিয়ারের প্রথম গোল্ডেন বুটও জিতবেন— এমন স্ক্রিপ্ট লিখলে হলিউডের পরিচালকরাও অবাক পাবেন।
কিন্তু মেসির ক্যারিয়ারে এর আগেও এমন স্ক্রিপ্ট বাস্তব হয়েছে। ফাইনালের রাতে আবার হবে কিনা— সেটাই এখন দেখার।