৩টি স্বাগতিক দেশ, ১৬টি স্টেডিয়াম, ৪৮টি দল এবং ১০৪টি ম্যাচ— ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জটিল কাঠামোর ফিফা বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মাঠের ভেতরের তর্ক-বিতর্ক ছাপিয়ে আলোচনা ছিল ফুটবলের উন্মাদনা ও রেকর্ড ঘিরে। নিউ জার্সিতে স্থানীয় সময় রবিবারের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়েই পর্দা নামে ছয় সপ্তাহের এই মহাযজ্ঞের।
এদিকে বৈশ্বিক এই আসর শেষে সামনে আসছে সম্প্রচার ও দর্শক উপস্থিতির অবিশ্বাস্য সব তথ্য, যা অতীতের সব রেকর্ড দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে।
সম্প্রচারে নতুন রেকর্ড: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দর্শক
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশন দর্শকসংখ্যায় তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। টুর্নামেন্টের ইংরেজি ভাষার অফিসিয়াল সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফক্স’ জানিয়েছে, স্পেন-আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩৭ হাজার মানুষ সরাসরি উপভোগ করেছেন। ম্যাচের একপর্যায়ে দর্শকসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ কোটি ১৬ লাখ ৮৫ হাজারে পৌঁছায়। নিলসেন মিডিয়া রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত যেকোনও ফুটবল ম্যাচের মধ্যে সর্বোচ্চ দর্শক দেখার অলটাইম রেকর্ড।
অপরদিকে স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারমাধ্যম ‘টেলেমুন্দো’-র প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী তাদের পর্দায় ম্যাচটি দেখেছেন ২ কোটি ২৬ লাখ মানুষ। অর্থাৎ দুটি ভিন্ন ভাষার সম্প্রচার মিলিয়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করেছেন ৬ কোটিরও বেশি দর্শক।
যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নিলেও কমেনি উন্মাদনা
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বেলজিয়ামের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও এই আসর ঘিরে দর্শক আগ্রহে ভাটা পড়েনি। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্বতারকারা পুরো উত্তর আমেরিকাজুড়েই অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ হিসেবে আলো ছড়িয়েছেন। টিকিটের চড়া দাম থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ম্যাচেই গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
ফক্স, এফএস১ ও টুবি— এই তিন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচে গড়ে ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক ছিল। যেখানে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এই গড় ছিল ৩৫ লাখ ৮৮ হাজার এবং ২০১৮ সালে ছিল ২৭ লাখ ৭০ হাজার।
ইনফান্তিনোর ভূয়সী প্রশংসা: ৭০ লাখ দর্শক স্টেডিয়ামে
তিন আয়োজক দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মাঠের অব্যবস্থাপনা বা কোনও বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়া সফলভাবে এই টুর্নামেন্ট সম্পন্ন করাকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছে ফিফা।
এক প্রতিক্রিয়ায় ফিফা সভাপতি বলেন, “স্টেডিয়ামগুলোতে আমরা রেকর্ডসংখ্যক দর্শক পেয়েছি, যার সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে, তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী সম্ভবত বিশ্বজুড়ে ৬০০ কোটিরও বেশি মানুষ ঘরে বসে এই টুর্নামেন্ট টিভিতে দেখেছেন।”
সবমিলিয়ে জটিল ফরম্যাট, ভ্রমণ ক্লান্তি ও চরম বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাণিজ্য ও জনপ্রিয়তার বিচারে এক নতুন যুগে প্রবেশ করলো।