আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ও কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। গত বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এএফএ এই দাবি অস্বীকার করে। তবে তাদের সঙ্গে যুক্ত ‘তৃতীয় একটি পক্ষের’ বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতের তদন্ত ও সমন জারির বিষযটি স্বীকার করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবলের শীর্ষ এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
গুঞ্জন ও মূল ঘটনা
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হারের পর জাতীয় দলের সঙ্গে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কর্মকর্তারা। এই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে— নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ও কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোকে আটক করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। খবরে আরও দাবি করা হয়, আন্তর্জাতিক চুক্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটকসহ ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে এবং আদালতে হাজির হওয়ার সমন জারি করা হয়েছে।
এসব খবরের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দেয় এএফএ। সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপি-কে নিশ্চিত করে বলেন, “প্রচারিত পুরো খবরটিই সম্পূর্ণ মিথ্যা।” তবে আন্তর্জাতিক স্পর্শকাতর এই বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
‘তৃতীয় পক্ষ’ ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড জুরি
আটকের বিষয়টি অস্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা মেনে নিয়েছে এএফএ। তারা জানায়, ফ্লোরিডার ডিস্ট্রিক্ট আদালত ‘তৃতীয় একটি পক্ষকে’ লক্ষ্য করে সমন জারি করেছেন।
ওই বিশেষ ব্যক্তিকে গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হয়ে ফুটবল ফেডারেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনও নথি, চুক্তি ও যোগাযোগের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব
২০১৭ সাল থেকে এএফএর মসনদে রয়েছেন ট্রেড ইউনিয়নের সাবেক নেতা ক্লদিও তাপিয়া। দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পেলেও দেশের ভেতরে একাধিক আইনি জটিলতায় পড়েছে এএফএ। সংস্থাটির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং (অর্থ পাচার) এবং কর ফাঁকির অভিযোগে আর্জেন্টিনায় ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে।
এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনার উগ্র ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই প্রশাসনের সঙ্গেও তাপিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। প্রেসিডেন্ট মিলেই দেশের ফুটবল ক্লাবগুলোকে বেসরকারীকরণ (প্রাইভেটাইজেশন) করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, শুরু থেকেই তার তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন তাপিয়া। সব মিলিয়ে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি মাঠের বাইরের প্রশাসনিক ঝড় সামলাতে হচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবলের প্রধানকে।
সূত্র: এএফপি