ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে বাধ্য হওয়ার পেছনে শুধু ইউরোপের বড় ফুটবল শক্তিগুলোর চাপই নয়, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল দুই প্রভাবশালী নারীর। উয়েফার ভাইস-প্রেসিডেন্ট লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার এবং নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তাদের দৃঢ় অবস্থান শুধু ফিফার পরিকল্পনাই ব্যর্থ করেনি, ফুটবল প্রশাসনে নারীদের প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, প্রায় ১৫০ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে অনুষ্ঠিত উয়েফার জরুরি বৈঠকে ম্যাকঅ্যালিস্টারই প্রথম দিকের নেতাদের একজন ছিলেন, যিনি প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের আহ্বান জানান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফা সভাপতি অ্যালেক্সান্ডার সেফেরিন ছাড়া ম্যাকঅ্যালিস্টার ও ক্লাভেনেসের মতো জোরালোভাবে আর কেউ কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাননি।
উয়েফার ২১ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে একমাত্র আরেক নারী সদস্য ক্লাভেনেস বৈঠকে ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ তৈরি হলে কীভাবে সাংগঠনিকভাবে এগোনো যেতে পারে, সেই রূপরেখাও তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে উয়েফার সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন, ফিফা যদি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ছোট অংশ বিক্রির পরিকল্পনা প্রত্যাহার না করে, তাহলে তারা ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কট করবেন।
উয়েফার পাশাপাশি কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের বিরোধিতাও বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত ফিফা পরিকল্পনাটি স্থগিত করে। সংস্থাটি স্বীকার করে, এই প্রস্তাব সংগঠনের ভেতরে এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা আর তাদের স্বার্থে নয়।
ফিফা পিছু হটার পর ম্যাকঅ্যালিস্টার ও ক্লাভেনেস প্রকাশ্যে সংস্থাটির সমালোচনা করেন। তারা পুরো প্রক্রিয়াকে অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল বলেও অভিহিত করেন।
দুই কর্মকর্তাই সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার। ম্যাকঅ্যালিস্টার ওয়েলসের হয়ে খেলেছেন, আর ক্লাভেনেস নরওয়ের জার্সিতে ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ফুটবল পরিচালনা ও নৈতিকতার প্রশ্নে তাদের প্রভাবশালী কণ্ঠে পরিণত করেছে।
২০২৩ সালে ম্যাকঅ্যালিস্টার উয়েফার নির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত ওয়েলশের প্রথম প্রতিনিধি হন। পরে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন এক থেকে বাড়িয়ে দুইয়ে উন্নীত করতেও ভূমিকা রাখেন তিনি।
অন্যদিকে ২০২২ সালে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে এই দায়িত্ব নেন ক্লাভেনেস।