এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে হোসে মরিনহো। বেনফিকা, ফেনেরবাহচে ও রোমার মতো ক্লাবে কোচিং করিয়ে ফের ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে ফিরেছেন ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’। আর দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই পেয়েছেন বড় অঙ্কের দলবদল বাজেট। এখন পর্যন্ত নতুন খেলোয়াড় আনতে প্রায় ২২৪ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
মরিনহোর চাওয়া অনুযায়ী দলে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। লিভারপুল থেকে ইব্রাহিমা কোনাতে, ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বার্নার্দো সিলভা এবং ইন্টার মিলান থেকে ডেনজেল ডামফ্রিজ যোগ দিয়েছেন। চেলসি থেকে মার্ক কুকুরেয়াকে আনা হয়েছে বাম প্রান্তের শক্তি বাড়াতে। আক্রমণভাগে যোগ হয়েছেন কার্লোস এস্পি। সবচেয়ে বড় সাইনিং হিসেবে দলে এসেছেন ইয়ান দিয়োমান্দে।
নতুন এই দলবদলের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট—গত মৌসুমের সমস্যাগুলো কাটিয়ে দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক একটি দল তৈরি করা। রক্ষণে গতি ও শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগে বিকল্প বাড়াতে চেয়েছেন মরিনহো।
তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে দলের তারকা আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে একসঙ্গে ব্যবহার করা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের মতো তারকাদের একই ছন্দে খেলানো এবং তাদের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা সহজ কাজ নয়।
এর সঙ্গে রয়েছে গত মৌসুমের হতাশা কাটিয়ে দলকে নতুন করে সংগঠিত করার দায়িত্ব। মরিনহোর সামনে তাই শুধু ম্যাচ জেতার চ্যালেঞ্জ নয়; ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা, কৌশলগত ভারসাম্য এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভূমিকা স্পষ্ট করাও বড় কাজ।
মরিনহোর ছকে কেমন হবে রিয়াল?
বেনফিকায় দায়িত্ব পালনের সময় মরিনহো ৪-২-৩-১ ও ৪-৪-২-এর মতো কাঠামো ব্যবহার করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদেও মাঝমাঠে দুই খেলোয়াড়ের পিভট রেখে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করতে পারেন তিনি। প্রাক-মৌসুমের আলোচনাতেও দলের মাঝমাঠের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে।
তবে দলবদল এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করতে রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে স্প্যানিশ তারকা রদ্রির নামও আলোচনায় রয়েছে। যদিও তাঁকে দলে পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে পুরোনো তারকাদের সমন্বয় করাটাই হতে পারে মরিনহোর বড় পরীক্ষা। কারণ নামের দিক থেকে রিয়ালের স্কোয়াড যতটা শক্তিশালী, মাঠে সেই শক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে প্রয়োজন হবে সুনির্দিষ্ট কৌশল ও ভারসাম্য।
শুরুতেই কঠিন পরীক্ষা
মরিনহোর দ্বিতীয় মেয়াদের রিয়াল মাদ্রিদের লা লিগা অভিযান শুরু হওয়ার কথা রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের কারণে সূচিতে পরিবর্তন আসায় ম্যাচটি ২৬ আগস্ট সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থাৎ নতুন রিয়ালকে নিজেদের মাঠেই প্রথম বড় পরীক্ষায় নামতে হবে। তার আগে অবশ্য প্রাক-মৌসুমে নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে পুরোনোদের বোঝাপড়া তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছেন মরিনহো।
অর্থের সঙ্গে এবার প্রত্যাশার চাপও
প্রায় ২২৫ মিলিয়ন ইউরোর এই দলবদল শুধু স্কোয়াডকে বড় করেনি, বাড়িয়েছে প্রত্যাশাও। মরিনহোর কাছ থেকে সমর্থকেরা দ্রুত ফল চাইবেন—বিশেষ করে গত মৌসুমের হতাশার পর।
রিয়ালে তার প্রথম মেয়াদে ২০১১ সালে কোপা দেল রে এবং ২০১২ সালে লা লিগা জিতেছিলেন মরিনহো। এবার তাঁর সামনে লক্ষ্য আরও বড়—তারকায় ঠাসা দলটিকে আবার ইউরোপের শীর্ষ লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনা।
তাই নতুন মৌসুমে মরিনহোর মিশন শুধু রিয়াল মাদ্রিদকে জেতানো নয়; বড় অঙ্কের বিনিয়োগকে মাঠের সাফল্যে পরিণত করাও।