ফুটবল মাঠে গোলের পর গোল করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন নরওয়ে তারকা আর্লিং হাল্যান্ড। কিন্তু এবার তার মুখ দেখা গেল এমন এক জায়গায়, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে পুলিশের! ইকুয়েডরে সীমান্তের কাছে একটি ট্রাক থেকে জব্দ করা হয়েছে ৪৬৯ কেজি কোকেন। আর সেই বিপুল মাদকের প্যাকেটগুলোর গায়ে ছিল নরওয়ের তারকা ফুটবলার আর্লিং হাল্যান্ডের ছবি।
ইকুয়েডরের পুলিশ বুধবার কলম্বিয়া সীমান্তের কাছে একটি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন জব্দ করেছে। ট্রাকটিতে পাওয়া যায় মোট ৩৭০টি প্যাকেট, যেগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা ট্রাকের গোপন তলায় লুকানো ছিল। সব মিলিয়ে মাদকের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৬৯ কেজি।
কিন্তু পুলিশের চোখে সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় ছিল অন্যটি। সবুজ রঙের আয়তাকার প্যাকেটগুলোর গায়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল আর্লিং হাল্যান্ডের ছবি।
পুলিশ সেই অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে ট্রাকের গোপন তলা থেকে একের পর এক প্যাকেট বের করে আনতে দেখা যায়, আর প্যাকেটগুলোর গায়ে হাল্যান্ডের ছবি পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান।
চালককে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে হাল্যান্ডের ছবি কেন ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি তারা। তবে শুনতে অদ্ভুত লাগলেও মাদক পাচারকারীদের কাছে এটি পুরোপুরি চেনা একটি কৌশল।
পুলিশ জানিয়েছে, পাচারকারীরা প্রায়ই পরিচিত ক্রীড়াবিদ, তারকা কিংবা অন্য সেলিব্রিটিদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে নিজেদের চালান চিহ্নিত করে।
এ ধরনের চিহ্নের মাধ্যমে বোঝানো হয় কোন অপরাধী চক্র চালানটি তৈরি করেছে বা নিয়ন্ত্রণ করছে, আবার কখনও বোঝানো হয় চালানটি কোন ক্রেতার জন্য নির্ধারিত।
অর্থাৎ প্যাকেটে হাল্যান্ডের ছবি থাকার অর্থ এই নয় যে তার সঙ্গে এই মাদক চক্রের কোনও সম্পর্ক আছে।
এখানে উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর হাল্যান্ড তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। চার ম্যাচে সাত গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলদাতা ও আলোচিত খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখান।
হাল্যান্ড অবশ্য একমাত্র ফুটবল তারকা নন, যাকে মাদক পাচারকারীরা এভাবে ব্যবহার করেছে। এর আগে জব্দ করা আরেকটি মাদকের প্যাকেটে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির ছবিও পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ ফুটবল তারকাদের জনপ্রিয়তাকে মাদক চক্রগুলো নিজেদের গোপন সংকেত বা ব্র্যান্ডিংয়ের কাজে ব্যবহার করছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।