ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রস্তাবিত প্রীতি ম্যাচটি খেলতে আগ্রহী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার কথা বাংলাদেশের। সেই টুর্নামেন্টের সূচির সঙ্গে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি কীভাবে মেলানো যায়, তা নিয়ে ফিফার সঙ্গে কথা বলবেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
গতকাল ঢাকায় এসেছিল ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জাতীয় স্টেডিয়ামে গিয়ে তারা মাঠ, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি, মিডিয়া বক্সসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেছেন। পরে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাও ঘুরে দেখে রাতে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিনিধি দলটি।
বৈঠকে বাংলাদেশে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্রাজিলের প্রস্তাবিত তারিখ ৫ অথবা ৬ অক্টোবর। তবে ৬ অক্টোবর ম্যাচ নিশ্চিত হয়ে গেছে-এমন খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাফুফের নির্বাহী সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন।
শাহীন বলেন, ‘আমাদের সভাপতি ফিফার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ব্রাজিল ম্যাচটাও খেলতে পারি এবং আসিয়ান কাপও খেলতে পারি।’
বাংলাদেশের সূচির জটিলতাটা এখানেই। ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে। এরপর অবস্থান নির্ধারণী ম্যাচসহ মোট চারটি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ৩ অক্টোবর। অন্যদিকে ব্রাজিল ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলে ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে খেলবে।
এরপরই ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে ব্রাজিল ম্যাচটি আয়োজন করতে হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সেই পথই খুঁজতে চান। ব্রাজিলের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় বৈঠকের পর নিজেদের ফুটবল ফেডারেশনে রিপোর্ট দেবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে দুই ফেডারেশনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে।
শাহীন জানিয়েছেন, ব্রাজিলের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর শর্ত দেওয়া হয়নি। জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ ও আশপাশের অবকাঠামো নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল রুম এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে নিরাপত্তাব্যবস্থার আরও উন্নতির পরামর্শ দিয়েছে তারা। ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের মতে, এসব কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই করা সম্ভব।
ব্রাজিলের বহরও হবে বড়। প্রায় ৯০ সদস্যের দল নিয়ে ঢাকায় আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা সাপোর্ট স্টাফ রাখার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে।
তবে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে অর্থও বড় বিষয়। এত বড় দলের সফর ও ম্যাচ আয়োজন করতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শাহীন, ‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। এ রকম ম্যাচ করতে হলে সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে।’