শৈশব থেকে যে ক্লাবের সঙ্গে বেড়ে ওঠা, সেই লেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলেন হামজা চৌধুরী। কিং পাওয়ার স্টেডিয়াম ছেড়ে এবার শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডার।
গত সপ্তাহেও হামজার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছিল ডার্বি কাউন্টির নাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই চুক্তি ভেস্তে শেফিল্ড ইউনাইটেড তাকে দলে টেনে নেয়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে শেফিল্ডের হয়ে ধারে খেলেছিলেন হামজা। এরপর গত গ্রীষ্মে লেস্টারে ফিরেছিলেন তিনি। এবার স্থায়ীভাবেই পুরোনো ঠিকানা ছেড়ে ব্রামল লেনে ফিরলেন।
হামজার লেস্টারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ছিল আর মাত্র এক বছর। ফলে কার্যত ফ্রি ট্রান্সফারেই শেফিল্ডে যোগ দিয়েছেন তিনি।
নতুন ক্লাবে ফিরে দারুণ উচ্ছ্বসিত হামজা। বলেছেন, ‘আমি খুবই রোমাঞ্চিত। গতবার এখানে থাকাকালে সময়টা দারুণ উপভোগ করেছিলাম। তাই শেষ পর্যন্ত চুক্তিটা সম্পন্ন হওয়ায় আমি খুব খুশি।’
শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারের সঙ্গে হামজার সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ওয়াটফোর্ডে অল্প সময়ের জন্য তার অধীনে কাজ করেছিলেন তিনি। এরপর শেফিল্ডে গত মৌসুমেও ওয়াইল্ডারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়।
লেস্টার ছেড়ে শেফিল্ডে আসাকে নিজের ও পরিবারের জন্য বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন হামজা। তার কথায়, ‘এটা আমার জন্য বড় পরিবর্তন। আমি প্রায় ২০ বছর লেস্টারে ছিলাম। তাই আমার ও পরিবারের জন্য এটি একটি পরিবর্তন। তবে আমি এটির জন্য সত্যিই অপেক্ষা করছি। আশা করি, এখানে আমাদের দারুণ একটি মৌসুম কাটবে।’
শেফিল্ডে গতবারের সতীর্থদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল হামজার। আরও বলেছেন, ‘আমি সব ছেলেদের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছি। আমি যখন এখানে ছিলাম, তখন আমাদের দারুণ একটি দল ছিল। গত এক থেকে দেড় বছর আমরা সবাই যোগাযোগ রেখেছি। পরিচিত মুখগুলোকে আবার দেখতে ভালো লাগছে।’
মাত্র সাত বছর বয়সে লেস্টারের একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন হামজা। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে কারাবাও কাপের ম্যাচে লিভারপুলের বিপক্ষে দলের জয়ে সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তার।
এর দুই মাস পর টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক করেন হামজা। লেস্টারের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ১৬৫ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। করেছেন তিন গোল। ২০২১ সালে লেস্টারের এফএ কাপজয়ী দলেরও সদস্য ছিলেন বাংলাদেশের এই তারকা।