জর্ডান যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দল। স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেখানে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তবে এই সফরে সাফজয়ী কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনকে সরিয়ে হেড কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটুকে। ছোটনকে রাখা হয়েছে সহকারী কোচ হিসেবে। কোচ পরিবর্তন নিয়ে সোমবার বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণকে।
কেন ছোটনকে সরিয়ে টিটুকে হেড কোচ করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে কিরণ বলেন, ‘টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মূলত একজন কোচ এবং তিনি প্রো লাইসেন্সধারী। ফেডারেশন মনে করেছে, তিনি বেশি ভালো করবেন, তাই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, দলের অনুশীলনে সহকারী কোচ মিরোনার সঙ্গে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর টিটুর দূরত্ব তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিরোনাকে শোকজ করে বাফুফে। আগে থেকেই এই দলের সঙ্গে থাকা মিরোনাকে এবার জর্ডান সফরের দল থেকে বাদ দিয়েছে ফেডারেশন।
মিরোনাকে সফরে না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কিরণ বলেন, ‘মিরোনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় তাকে দলের সঙ্গে সফরে নেওয়া হচ্ছে না।’
তবে এখানেই উঠছে প্রশ্ন—একই ধরনের পরিস্থিতিতে কেন ভিন্ন সিদ্ধান্ত বাফুফের? সিনিয়র নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ করেছিল সাফ কর্তৃপক্ষ। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাফুফে তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিল। কিন্তু এখনও সেই তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। অথচ তদন্ত চলমান থাকা অবস্থাতেই নওমিকে জাপানে এশিয়ান গেমসের বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজার করে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিরোনা রয়েছেন দলের বাইরে। অর্থাৎ, মিরোনার ক্ষেত্রে তদন্ত চলায় সফরে যাওয়া বন্ধ, আর নওমির ক্ষেত্রে তদন্ত চললেও একের পর এক আন্তর্জাতিক সফরের দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি। বাফুফের এই ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কিরণ অবশ্য দুজনের বিষয়কে আলাদা বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘নওমি এবং মিরোনার বিষয়টি ভিন্ন। নওমির সঙ্গে দলের কারও কোনও সমস্যা হয়নি। আর মিরোনাকে নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন রয়েছে। তাই দুই ক্ষেত্রে দুই রকম সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
সাবেক জাতীয় ফুটবলার মিরোনা গত কয়েক বছর ধরে নারী ফুটবল দলের সঙ্গে কাজ করছেন। গোলাম রব্বানী ছোটনসহ অন্য কোচদের অধীনে কাজ করার সময় তার সঙ্গে বড় ধরনের মনোমালিন্য বা মতবিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু সাইফুল বারী টিটু দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দুই সপ্তাহের অনুশীলনেই তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে টিটুর পেছনে বাফুফের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের বিপরীতে তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত প্রাপ্তি কতটা মিলছে—এ নিয়েও ফুটবলাঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তবে বাফুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব প্রশ্ন কতটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
কোচ পরিবর্তন নিয়ে অবশ্য দলের খেলোয়াড়দের প্রকাশ্যে কোনও আপত্তি নেই। বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক আলপি আক্তার অধিনায়ক মেঘলার সঙ্গে পরামর্শ করে বলেন, ‘দুই কোচই ভালো। আমরা তাদের অধীনে অনুশীলন করছি। ফেডারেশন যেটা ভালো মনে করেছে, সেটাই করেছে।’