শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলের রেকর্ড ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা সামলে এবার সামনে আরও এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। ১০ গোলের দুঃস্মৃতি পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন পরীক্ষায় নামছে ঋতুপর্ণা চাকমারা।
আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসের ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায়।
প্রথম ম্যাচে নিয়মিত একাদশের ঋতুপর্ণা চাকমা ও মনিকা চাকমাকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধান কোচ পিটার বাটলার। তাদের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণরা। এবার অবশ্য শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের।
উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় হারের পর বুধবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই জে-গ্রিন সাকাই স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিতে শেষ অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল।
প্রথম ম্যাচের হারকে ‘রূঢ় বাস্তবতা’ হিসেবে স্বীকার করেছেন দলের সহকারী কোচ আবুল হোসেন। তবে পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। আবুল হোসেন বলেন, ‘এটা সত্যি যে আমরা ভালো শুরু করতে পারিনি। তবে আমাদের সামনে এখনও দুটি ম্যাচ রয়েছে। আমাদের ভালো করার জায়গা আছে। আশা করি, মেয়েরা পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচ দেখেছি এবং বিশ্লেষণ করেছি। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার খেলার ধরন প্রায় একই রকম। সেই অনুযায়ী আমরা কৌশল সাজিয়েছি। সত্যি বলতে, আমাদের এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মানের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। তবে আমরা মাঠে ভালো একটি ম্যাচ খেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে লড়াইকে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন আবুল হোসেন। সেটি অকপটেই জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘শুরু থেকেই উত্তর বা দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল না। আমাদের নজর মূলত মিয়ানমারের দিকে। কারণ মিয়ানমার ও আমাদের দলের মান কাছাকাছি। তাই আমরা তাদের বিপক্ষে একটি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছি।’
চীনে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পাওয়া নবিরন খাতুন ছাড়া দলের বাকি সবাই পুরোপুরি ফিট আছেন বলেও জানিয়েছেন সহকারী কোচ।
বুধবার বৃষ্টির মধ্যে অনুশীলন শেষে রক্ষণভাগের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন ডিফেন্ডার শিউলি আজিম। বড় হারের পর এবার রক্ষণ আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। শিউলি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমাদের প্রস্তুতি ভালো। আগের ম্যাচে আমরা যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো আর না করার চেষ্টা করব। যেহেতু আমাদের পরের প্রতিপক্ষও অনেক শক্তিশালী, তাই আমাদের মূল চেষ্টা থাকবে গোল হজমের সংখ্যা কমানো। আমরা চেষ্টা করব কোনো গোল না খেতে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে।’
এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় সমশক্তির দল। মাঠে তাদের গতির সঙ্গে তাল মেলানো আমাদের জন্য খুবই কঠিন। তবে আমরা উন্নতি করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি।’