মুখে সরাসরি পা চালিয়ে দিলেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়। মাঠে লুটিয়ে পড়লেন ফর্টিস এফসির নোরিকি আকাদা। দৃশ্যটি দেখে লাল কার্ডের অপেক্ষায় ছিলেন সতীর্থরা। কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্তে বিস্ময়ে হতবাক হন তারা। কারণ লাল কার্ডের জায়গায় দেখানো হলো হলুদ কার্ড! ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ম্যাচে এমন সিদ্ধান্তে রেফারিং নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
গোপালগঞ্জে ফর্টিস এফসি ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১-১ গোলে ড্রয়ে। তবে ফল ছাপিয়ে ম্যাচের ৮২ মিনিটের একটি ঘটনা নিয়েই এখন বেশি আলোচনা।
ফর্টিসের নোরিকি আকাদাকে আটকাতে গিয়ে ইয়ংমেন্সের মোহামেদ ফোফানা সরাসরি তার মুখ বরাবর পা চালিয়ে দেন। আঘাত পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নোরিকি। ঘটনাস্থলে দৌড়ে আসেন রেফারি জুনায়েদ শরীফ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি ফোফানাকে লাল কার্ড না দেখিয়ে হলুদ কার্ড দেখান।
রেফারির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন ফর্টিসের খেলোয়াড়রা। তবে তাতে সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফর্টিস এফসির সভাপতি শাহীন হাসান। তিনি বলেন, ‘এই সব কিছুর জন্য যদি আমরা কিছু বলি, তাহলে ওনাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটি আমাদের শাস্তি দেবে, জরিমানা করবে। আর খেলার জন্য মাঠে ঢোকা যাবে না। কিন্তু কখনও এর জন্য রেফারি কোনও শাস্তি পাবে না।’
দেশের ফুটবল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজব এক আমাদের দেশের ফুটবল। কেন জানি না এই ফুটবল খেলা নিয়ে পড়ে আছি। আমার মনে হয়, এই ফুটবল খেলা থেকে সরে আসা উচিত।’
রেফারিং নিয়ে একই ধরনের হতাশা ফর্টিসের ম্যানেজার রাশেদুল ইসলামের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘এখন আর চিঠি দেই না। কারণ এতে কোনো লাভ হয় বলে মনে হয় না। রেফারিদের মধ্যে যারা ভুল করেন, তারা নিজেরা ভুল শুধরাতে না চাইলে কেউ শুধরাতে পারবে না। আমাদের দেশেও ভালো রেফারি আছেন। সমস্যাটা হলো, ভালোর সংখ্যাটা কম।’
ম্যাচের ওই ঘটনা ও কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন বাফুফের বিদায়ী হেড অব রেফারিজ আজাদ রহমান। তার মতে, ফোফানার ওই চ্যালেঞ্জ সরাসরি লাল কার্ডের যোগ্য, ‘ওই ডিফেন্ডার যেভাবে চার্জ করেছে, তাতে করে তো সরাসরি লাল কার্ড হয়। ম্যাচে রেফারি কেন লাল কার্ড দেখালো না, বোধগম্য হচ্ছে না। শুধু রেফারি নন, দুই সহকারী রেফারিও তো ঠিকমতো অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। এখন দেখি রিপোর্ট কী আসে।’