গোল উদযাপন মুহূর্তেই পরিণত হলো হতাশায়। গোল করার পর কর্নার পতাকা তুলে উদযাপন করতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইসরায়েলের সায়েদ আবু ফারচিকে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচে ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলারের লাল কার্ড এখন জন্ম দিয়েছে বিতর্কের।
লিনজে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর কর্নার পতাকাটি তুলে হাতে রাখেন ফারচি। এরপর সেটি দ্রুত মাথার ওপর তুলে ধরেন তিনি। এই উদযাপনের কারণেই তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
তবে ঠিক কোন আচরণের জন্য ফারচিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, উসকানিমূলক, বিদ্রূপাত্মক বা উত্তেজক অঙ্গভঙ্গি বা আচরণের জন্য খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হতে পারে। পাশাপাশি কর্নার পতাকা সরানোও হলুদ কার্ডযোগ্য অপরাধ।
ফারচির উদযাপনের ব্যাখ্যা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি নাকি বন্দুক চালানোর ভঙ্গি করেছিলেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, তার অঙ্গভঙ্গিটি স্নুকার বা পুলের শট নেওয়ার মতো ছিল।
বিষয়টি নিয়ে উয়েফার কাছে মন্তব্য জানতে চেয়েছে বিবিসি স্পোর্ট।
ফারচির লাল কার্ড নিয়ে অবশ্য সন্তুষ্ট নন ইসরায়েলের কোচ রান বেন শিমন। তার দাবি, কলোরাডো র্যাপিডসের এই মিডফিল্ডার মেজর লিগ সকারেও (এমএলএস) একইভাবে গোল উদযাপন করেন এবং এ কারণে এর আগে কখনো হলুদ কার্ড দেখেননি।
বেন শিমন বলেন, ‘আমি এর আগেও এটা দেখেছি এবং সবাই চাইলে সেটি যাচাই করতে পারে। এই তরুণ খেলোয়াড় ইসরায়েল জাতীয় দল, এমএলএস কিংবা অন্য যেখানেই খেলুক, গোল করার পর বারবার একইভাবে উদযাপন করে। এ কারণে সে কখনো হলুদ কার্ড পায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে বিষয়টি জানতো না। প্রতিটি গোল করার পর এটাই তার উদযাপনের ধরন। সে একজন তরুণ খেলোয়াড়। আমি নিশ্চিত, এই শিক্ষা অনেক দিন তার সঙ্গে থাকবে। সে ভুল করেছে।’
ফারচির লাল কার্ডের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা চলছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইসরায়েলের আসন্ন দুটি ম্যাচ বয়কট করার দাবিতে প্রচারণাও চলছে। তবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুই ম্যাচই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।