বাংলাদেশ দলের নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে তার অনুপস্থিতি এবং অধিনায়কত্বের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে জামালের বিকল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে হামজা চৌধুরীর নাম। এমনকি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশ দলের এই মিডফিল্ডার। তবে কোচ থমাস ডুলির কাছে নেতৃত্ব মানেই শুধু হাতে আর্মব্যান্ড থাকা নয়।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেছেন, ‘হামজা অধিনায়ক হতে চেয়েছিল। কিন্তু হামজাকে দলের নেতা হতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডের প্রয়োজন নেই। সে যেকোনও জায়গায় নেতা- ড্রেসিংরুমে, গ্যালারিতে, হোটেলে। সব জায়গাতেই সে একজন নেতা। তাকে নেতা হতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডের দরকার নেই।’
তবে হামজা কেন অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন, সেটাও ব্যাখ্যা করেছেন ডুলি। তিনি বলেন, “আর কেউই অধিনায়ক হতে চাচ্ছিল না। এমনকি সোহেলও অধিনায়ক হতে চায়নি। তখন হামজা আমার কাছে এসে বললো, যদি কেউ হতে না চায়, তাহলে আমি এই দায়িত্বটা নিতে চাই।”
হামজার সেই সিদ্ধান্তের কারণে হয়তো তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল বলে মনে করেন ডুলি। তার ভাষায়, ‘হয়তো তার জন্য চাপটা একটু বেশি হয়ে গিয়েছিল। কারণ এর আগে আমি তাকে এভাবে খেলতে দেখিনি। আমার সঙ্গে অনুশীলনেও তাকে কখনও এভাবে খেলতে দেখিনি, ম্যাচেও দেখিনি। তাই ওই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম।’
অধিনায়কত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ডুলি আরও বলেন, ‘এটা যদি সমর্থকদের জন্য বা অন্য কোনও কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে সেটা আপনাদের হামজাকেই জিজ্ঞেস করতে হবে। কিন্তু নেতা হওয়ার জন্য তার আর্মব্যান্ডের প্রয়োজন নেই।’
এদিকে, জিদান ইউসুফের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ডুলি। শেষ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জিদান যেভাবে খেলেছেন, তাতে পরের ম্যাচে তাকে একাদশে রাখার সিদ্ধান্তও জানিয়ে দিয়েছেন কোচ।
জিদানকে নিয়ে ডুলির ব্যাখ্যা, ‘জিদানের ব্যাপারে বলতে গেলে, শেষ ম্যাচে তাকে শুরু থেকেই খেলানো উচিত কিনা, সেটা নিয়ে আমিও শুরুতে প্রশ্নের মধ্যে ছিলাম। তবে অনুশীলনে একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সও আমাকে দেখতে হয়।’
শাকিল আহাদ তপুর প্রসঙ্গ টেনে ডুলি বলেন, ‘আপনি যদি তপুর মতো পেছন থেকে বল নিয়ে খেলার সময় খুব সহজ ভুল করেন এবং অনুশীলনেও একই ভুল করেন, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একজন তরুণ খেলোয়াড়কে নামানোর আগে অবশ্যই দুবার ভাবতে হয়।’
তবে মাঠে নামার পর জিদানের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘কিন্তু জিদান যখন মাঠে নামলো, তখন আমাকে যেভাবেই হোক তাকে থামাতে হয়েছিল এবং আমি তাকে সরাসরি খেলায় ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। সে অসাধারণ কাজ করেছে। তাই পরের ম্যাচে সে অবশ্যই শুরু করবে।’