১৬০ মিলিয়ন ইউরো থেকে যেভাবে নিঃস্ব রবার্তো কার্লোস

ফুটবল মাঠে ছিলেন কিংবদন্তি। ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য সাফল্য। কিন্তু মাঠের বাইরে জীবনটা ততটা মসৃণ ছিল না রবার্তো কার্লোসের। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে বিপুল অর্থ উপার্জন করেও সেই সম্পদের প্রায় পুরোটাই হারিয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক এই তারকা।

লিসবনে পর্তুগাল ফুটবল সামিটে নিজের জীবনের কঠিন সময়ের কথা জানিয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। সেখানে তিনি জানান, ভুল মানুষের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরে সেই ব্যক্তিরাই তার সম্পদ থেকে নিজেদের লাভবান করেছেন। সব মিলিয়ে ফুটবল থেকে যা আয় করেছিলেন, তার ৯৯ শতাংশই হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক এই লেফট-ব্যাক।

কার্লোস বলেন, ‘আমার এমন কিছু মানুষের সঙ্গে সমস্যা হয়েছিল, যারা আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে দিয়েছিল। ফুটবল থেকে যা আয় করেছি, তার ৯৯ শতাংশই হারিয়েছি।’

সর্বস্ব হারানোর সেই সময়ের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবার নিয়ে খুব গুরুতর একটি সমস্যা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ঘুমাতে গিয়েছিলাম। শুক্রবার এমন একগুচ্ছ কাগজপত্র পেলাম, যেগুলো সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। তখনই বুঝতে পারি, আমার পুরো অতীতটাই হারিয়ে গেছে।’

নিজের ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন কার্লোস। তিনি জানান, জীবনের কিছু সিদ্ধান্ত এখন গভীরভাবে অনুতপ্ত করে তাকে। পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদেরও সতর্ক করেছেন, শুধু ফুটবল ক্যারিয়ারের ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, ‘আমি ভুল করেছি, যেগুলোর জন্য এখন তীব্র অনুশোচনা হয়। আমি সবসময়ই খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পরের সময়ের জন্য পরিকল্পনা করতাম।’

ভবিষ্যতের জন্য নিজের পরিচিতি ও ভাবমূর্তি কাজে লাগানোর গুরুত্বও তুলে ধরেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। তার ভাষায়, ‘নিজের জন্য একজন খেলোয়াড় হিসেবে একটি গল্প তৈরি করা এবং নিজের ভাবমূর্তি কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যখন আমি ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই, তখন এরই মধ্যে আমার স্পোর্টিং ডিরেক্টরের লাইসেন্স ছিল এবং আমি অনেক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছিলাম।’

সেই সিদ্ধান্তের সুফল এখনও পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কার্লোস। যদিও তার সাবেক সম্পদের বড় একটি অংশই এখন আর তার হাতে নেই।

উল্লেখ্য, ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক হিসেবে বিবেচিত রবার্তো কার্লোস পেশাদার ক্যারিয়ারে আনুমানিক ১৬০ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছিলেন বলে বিভিন্ন হিসাব থেকে জানা যায়। ব্রাজিলের সম্প্রচারমাধ্যম গ্লোবোর তথ্য অনুযায়ী, অতীতে তার সমস্যার অন্যতম কারণ ছিলেন কিছু খেলোয়াড় এজেন্ট বা উপদেষ্টা।

ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপ জিতেছেন কার্লোস। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি স্প্যানিশ লিগ শিরোপা। ইন্টার মিলান ও ফেনারবাচেসহ ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবেও খেলেছেন তিনি।

ফুটবল ছাড়ার পর এখন রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে যুক্ত থেকে যুব দলের কোচ এবং ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন এই কিংবদন্তি।