পেলে-রোনালদোদের পর নতুন ব্রাজিল গড়তে চান আনচেলত্তি

ব্রাজিলের ফুটবলে তারকার অভাব কখনও ছিল না। পেলে, গ্যারিঞ্চা, রোমারিও, রোনালদো, নেইমার, কাকার পর এখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, এস্তেভাও, এন্দ্রিকদের নিয়ে নতুন প্রজন্ম। কিন্তু এই প্রজন্মকে দিয়েই ভবিষ্যতের ব্রাজিল গড়ে তুলতে চান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

সোমবার (২৮) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ব্রাজিল কোচ। তার মতে, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করতে তরুণ প্রতিভাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

আনচেলত্তি বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে ব্রাজিলকে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে পারে এমন একটি নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি করা আমাদের অগ্রাধিকার। এটাই মূল লক্ষ্য। আজ যে ২৬ জন দলে আছে, তাদের মধ্যে হয়তো সেরা খেলোয়াড়রা নেই। কিন্তু আমাদের কিছু একটা করতে হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, এমন তরুণ খেলোয়াড়কে অনুসরণ করতে হবে এবং তার ওপর নজর রাখতে হবে।’

তরুণদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্লাব ফুটবলে তাদের নিয়মিত খেলা সবসময় বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানিয়ে দিয়েছেন আনচেলত্তি,‘এক বছর আগে কোনো খেলোয়াড় ক্লাবে নিয়মিত খেলতো না, তাহলে তাকে দলে ডাকা হতো না। এখন কোনো খেলোয়াড় তার ক্লাবে না খেললেও, যদি আমরা মনে করি জাতীয় দলের ভবিষ্যতের জন্য সে ভালো, তাহলে আমি তাকে দলে ডাকবো।’

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারও মাঠে নামবে ব্রাজিল। ম্যাচ মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায়। সর্বশেষ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এটি ব্রাজিলের দ্বিতীয় পরীক্ষা। তবে আনচেলত্তির কাছে ম্যাচটি নিছক প্রীতি ম্যাচ নয়,‘স্টাফ কিংবা খেলোয়াড়দের কেউই মনে করে না যে আমরা একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। আমরা এমন একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে মাঠে নামবো, যে দেশটি ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর এই জার্সির অনেক ওজন আছে। আমাদের কাছে এটা কোনও প্রীতি ম্যাচ নয়। আমাদের কাছে বিশ্বকাপের ম্যাচ আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ একই। আমরা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করি।’

ব্রাজিলের নতুন প্রজন্মের প্রতিভা নিয়ে বলতে গিয়ে অতীতের সোনালি সময়ের কথাও টেনেছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এই দেশ অসাধারণ প্রতিভা তৈরি করতে সক্ষম। ১৯৫০-এর দশকে তারা সেটা করেছে পেলে ও গ্যারিঞ্চার মতো ঐতিহাসিক খেলোয়াড়দের দিয়ে। এরপর রোমারিও, রোনালদো, নেইমার, কাকারাও এসেছে। এখন নতুন একটি প্রজন্ম রয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, এস্তেভাও, এন্দ্রিক...’

তবে শুধু প্রতিভা থাকলেই আগের মতো সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন আনচেলত্তি,‘সমস্যা হলো, প্রতিভা এখন ২০ বছর আগের মতো পার্থক্য গড়ে দেয় না। প্রতিভাকে দলীয়ভাবে সমর্থন দিতে হবে।’

ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের কাজ নিয়ে সমালোচনা নিয়েও কথা বলেছেন আনচেলত্তি। তার দাবি, সমালোচনা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলছে না,‘আমার কাজ নিয়ে সমালোচনা সবসময় ছিল এবং সবসময় থাকবে। এই সমালোচনা জাতীয় দল ও এই খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার ধারণাকে প্রভাবিত করে না।’