কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বের গুঞ্জনের মধ্যেই পর্তুগাল ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন বুধবার জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগাল অধিনায়ক নিজেই।
বুধবার কোপেনহেগেনের পারকেন স্টেডিয়ামে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল রোনালদোর। কিন্তু জেসুস সংবাদ সম্মেলন করার পরই আচমকা ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি।
রোনালদোকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচেও শুরুর একাদশে থাকবেন না পর্তুগাল অধিনায়ক। এর আগে রবিবার নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ বেঞ্চেই কাটিয়েছিলেন রোনালদো।
এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ক্যাম্প ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রোনালদো। তিনি লেখেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলে আমি জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি লিখেছেন,‘যথাসময়ে আমি পর্তুগালের সব মানুষের কাছে জাতীয় দল ছাড়ার কারণ সম্পর্কে সত্যটা জানাবো। এই জাতীয় দলের প্রতি আমি সবসময় নিবেদিত ছিলাম।’
তার পরই যোগ করেন এভাবে, ‘এখন পর্তুগাল এবং আমার সব সতীর্থের জন্য কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই শুভকামনা জানানোর সময়।’
এর আগে জেসুস অবশ্য রোনালদোর সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলেই দাবি করেছিলেন। তবে ৭২ বছর বয়সী এই কোচ স্বীকার করেছিলেন, নেশন্স লিগে নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকায় রোনালদো হতাশ হয়েছিলেন।
অসলোতে ২-১ গোলের জয়ের পর রোনালদো সতীর্থদের সঙ্গে গ্যালারিতে থাকা পর্তুগিজ সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে যাননি। সরাসরি চলে যান ড্রেসিংরুমে।
তবে জেসুসের দাবি, এ নিয়ে কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’
রোনালদোর হতাশা প্রসঙ্গে জেসুস বলেন, ‘যেকোনো খেলোয়াড়ই, আমি নিজেও একসময় খেলোয়াড় ছিলাম... আপনি যখন ২০ বা ৩০ মিনিট ওয়ার্মআপ করেন, এরপর মাঠে নামার সুযোগ পান না, তখন কেউই এতে খুশি থাকে না।’
পর্তুগাল কোচ জানান, ম্যাচের আগেই রোনালদোকে তিনি বলেছিলেন যে, শুরুর একাদশে থাকবেন না। তবে ম্যাচের শেষদিকে তাকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা ছিল।
জেসুস বলেন, ‘এরপর কোচ হিসেবে আমি তাকে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ির কিছু নেই।’