ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। বড় ব্যবধানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। তার মতে, র্যাঙ্কিং ও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের অভিজ্ঞতার দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দলগুলোর তুলনায় এখনও পিছিয়ে বাংলাদেশ।
জাকার্তায় ৬৫ বছর বয়সী ডুলি বলেন, ‘আপনি যদি ১৮১ নম্বরে থাকেন আর প্রতিপক্ষ যদি ১১৬, ১৩০ কিংবা ১৪০ নম্বরে থাকে, তাহলে স্পষ্ট বোঝা যায়, র্যাঙ্কিংয়ে যত ওপরে থাকা যায়, খেলোয়াড় ও দল হিসেবে তারা তত ভালো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দলগুলো নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।’
ম্যাচের ১১ মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ। এরপর ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে দলের রক্ষণ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার গতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পার্থক্যও চোখে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে ডুলি বলেন, ‘শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে খেললে খেলোয়াড়দের চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং খেলার গতি ধীর হয়ে পড়ে। ফুটবলে মূল বিষয়টাই হলো গতি—কত দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে বল নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছেন এবং তা বাস্তবায়ন করছেন।’
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এই কোচ। তার মতে, শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময়ের নিবিড় অনুশীলন প্রয়োজন।
ডুলি বলেন, ‘মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড কিংবা ইন্দোনেশিয়ার লিগ আমাদের দেশের লিগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তারা পুরো বছরজুড়েই অনুশীলনের মধ্যে থাকে এবং প্রতি সপ্তাহে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলে। তাছাড়া ইন্দোনেশিয়ার অনেক খেলোয়াড় বুন্দেসলিগা, নেদারল্যান্ডস কিংবা ইতালির মতো ইউরোপীয় লিগে খেলছে, যা তাদের খেলায় বড় প্রভাব ফেলে।’
এই টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়ার কথাও জানান ডুলি। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে জয় পেলেই উন্নতি নিশ্চিত হয় না বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলের সঙ্গে খেলে জয় পাওয়াটা দেখতে সুন্দর দেখায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, কিন্তু তাতে খেলোয়াড়দের আসল উন্নতি হয় না। দ্রুতগতির ও শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হলে এই ব্যবধানটা টের পাওয়া যায়।’
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ৬-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে দীর্ঘ সময় আর গোল হজম করেনি দলটি। তবে যোগ করা সময়ের শেষ সাত মিনিটে আরও তিন গোল হজম করে ডুলির দল।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিয়ে ডুলি জানান, ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের অবস্থান ও ভুলগুলো বারবার দেখানো হচ্ছে, যাতে তারা সেগুলো শুধরে নিতে পারে।
তার ভাষায়, ‘উন্নতি কখনও রাতারাতি আসে না। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা যে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা পেয়েছি, তা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করব।’