এশিয়ার ফুটবলে আসছে বড় পরিবর্তন, বদলে যেতে পারে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কাঠামো!

এশিয়ার ফুটবলে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। ২০৩০ সাল থেকে দুই বছর পরপর এই অঞ্চলে নতুন নেশন্স লিগ আয়োজনের খসড়া পরিকল্পনা সামনে এনেছে তারা। তিন স্তরের এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন প্রীতি ম্যাচের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বকেও একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইএসপিএনের দেখা খসড়া নথি অনুযায়ী, এএফসির সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে উপস্থাপিত প্রস্তাবে এশিয়ার ৪৭টি দেশকে নিয়ে তিন স্তরের প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ দুই স্তরে থাকবে ১৮টি করে দল, আর তৃতীয় স্তরে থাকবে ১১টি দল।

এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপ ও এএফসি এশিয়ান কাপ- দুই টুর্নামেন্টের বাছাই পর্বের পথও সরাসরি সহজ ও সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আলাদা একটি টুর্নামেন্ট হিসেবে নেশন্স লিগ আয়োজনের বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে পরিচালন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কথা বলা হয়েছে।

বিশ্বকাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজিত সংস্করণ শুরু হবে ২০৩২-৩৩ মৌসুম থেকে। ওই সংস্করণে প্রথম স্তরের দলগুলো ছয়টি করে হোম ও ছয়টি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। অর্থাৎ প্রতিটি দল খেলবে মোট ১২টি ম্যাচ।

প্রথম স্তরের শীর্ষ ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। সপ্তম থেকে দশম স্থানে থাকা দলগুলো বাকি জায়গাগুলোর জন্য রাউন্ড-রবিন প্লে-অফে খেলবে।

প্রতিটি স্তরেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমোশন ও অবনমন কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ প্রতিটি বিভাগে শীর্ষ দুই দল ওপরে উঠবে, আর নিচের দুই দল নেমে যাবে পরের স্তরে।

২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এএফসির সাধারণ সম্পাদক দাতুক সেরি উইন্ডসর জন এই পরিকল্পনার কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ফিফা উইন্ডোর সময় একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিযোগিতার প্ল্যাটফর্ম চালু করার মাধ্যমে আমরা নিয়মিত উঁচুমানের ম্যাচ খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই। নেশন্স লিগ ধরনের একটি প্রতিযোগিতার প্রতি বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা রয়েছে।’

নতুন কাঠামোতে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে ২০২৮-২৯ মৌসুমে একটি পরীক্ষামূলক পাইলট টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাবও করেছে এএফসি।