মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিপক্ষ বেনিন, কেমন দল তারা?

মেসির শেষ ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার পুরোটা জুড়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কিন্তু বিদায়ের মঞ্চে তার সামনে দাঁড়ানো দলটিও কম কৌতূহলজনক নয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনও না ওঠা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিন এবার ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রতিপক্ষ হয়ে।

আর্জেন্টিনার হয়ে সিনিয়র আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি এখন পর্যন্ত ৬৩টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেলেছেন। বুধবার রাতে দেশের হয়ে শেষবার মাঠে নামলেও কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারে নতুন একটি অভিজ্ঞতা যোগ হতে যাচ্ছে। সেটি হচ্ছে প্রথমবারের মতো বেনিনের বিপক্ষে খেলবেন তিনি।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনের অবস্থান টোগো ও নাইজেরিয়ার মাঝখানে। উত্তরে বুরকিনা ফাসো ও নাইজার এবং দক্ষিণে গিনি উপসাগর। দেশটি আগে ‘দাহোমে’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বেনিন। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ।

বেনিনের সরকারি রাজধানী পোর্তো-নোভো। তবে দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র কোটোনু।

ফুটবলে বেনিনের ডাকনাম ‘চিতা’। এখন পর্যন্ত তারা কখনও ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে ২০১৯ সালে তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে। সেবার প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা।

বেনিন এখন পর্যন্ত আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে পাঁচবার অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের আসরও রয়েছে।

তবে তাদের পরবর্তী ম্যাচটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ম্যাচ হতে যাচ্ছে। বুধবার ভোর ৫টায় বুয়েনস আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্টালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে বেনিন। যা দেশের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ! আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আর্জেন্টিনা অধিনায়কের বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে এটি আয়োজন করা হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে বেনিন পেয়ে যাচ্ছে অনন্য এক পরিচয়- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষ।

এটি দুই দেশের ইতিহাসে প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। অর্থাৎ এর আগে কখনও আর্জেন্টিনা বা মেসির বিপক্ষে খেলেনি বেনিন।

তবে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ নির্ধারণের সিদ্ধান্তে অনেকেরই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আফ্রিকার তুলনামূলক ছোট ফুটবল ফেডারেশনের দেশগুলোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার যে প্রবণতা রয়েছে, সেটি সামনে এসেছে। এর পেছনে আর্থিক বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে তুলনামূলক কম ম্যাচ ফি দিতে হয়। ফলে ম্যাচ থেকে পাওয়া আয়ের বড় অংশ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে থেকে যায়।

তবে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তটি ছাপিয়ে আলোচনায় চলে এসেছে বেনিন দল সংক্রান্ত নানা অভিযোগ! বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ ফ্লাইটেই আর্জেন্টিনায় যেতে হয়েছে বেনিন দলকে। দীর্ঘ ভ্রমণে দলের বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এমনকি বেনিনের ভিডিও স্টাফের একজন সদস্য অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন বলেও খবর এসেছে।

থাকার ব্যবস্থাও দলের জন্য হতাশার কারণ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের এমন হোটেলে রাখা হয়েছে যেখানে যথাযথ অনুশীলনের সুবিধা নেই। একটি তলায় গরম পানির ব্যবস্থাও ছিল না বলে জানা গেছে। সব কিছুর পরও বুধবারের ম্যাচটি বেনিনের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ হয়ে থাকবে।