লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন। তাকে ঘিরে নানান ইতিবাচক কথা চলছে। এবার আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ অ্যালেনজান্দ্রো সাবেলার কোচিং স্টাফের সদস্য হুলিয়ান কামিনো স্মৃতির ঝাঁপি খুলেছেন। এসেইজা ট্রেনিং গ্রাউন্ডে কাটানো বছরগুলোতে মেসিকে নিয়ে অজানা বেশ কিছু স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন এই কোচিং স্টাফ।
এস্তুদিয়ান্তেসের সাবেক খেলোয়াড় এবং ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে অ্যালেনজান্দ্রো সাবেলার কোচিং স্টাফের সদস্য হুলিয়ান কামিনো স্ট্রিমিং প্রোগ্রামে লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টাইন জাতীয় দলের স্টাফদের নিয়ে কিছু অজানা ঘটনার কথা শেয়ার করেছেন। মেসি এমন এক অধিনায়ক ছিলেন, যিনি কামিনোর মতে, তার চারপাশের মানুষদের কখনও আলাদা চোখে দেখেননি। তাই তো এমন কথা উঠেছে, ‘ও এমনই, আর সে জন্যই তারা ওর জন্য প্রাণ দিতেও রাজি।’
সাবেক এই সহকারী মনে করে বলেন, ‘এএফএ ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কর্মীদের জন্য মেসি অনেক বড় সহায়ক ছিলেন। তিনি উপহার দিতেন, র্যাফেল ড্রয়ের আয়োজন করতেন, সবসময় তাদের পাশে থাকতেন, এমনকি বোনাসও ভাগ করে নিতেন। পুরো দলটাই অসাধারণ উদার ছিল।’ তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বর্ণনা করেন যে রোজারিওর এই সন্তান কীভাবে কোচিং স্টাফদের সঙ্গে আচরণ করতেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও, তিনি কখনও আমাদের ছোট করে দেখেননি। তিনি সবসময় আমাদের সমর্থন করেছেন। আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনও আমাদের দূরে ঠেলে দেননি; তিনি সবসময় আমাদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেছেন।’
দলীয় ভ্রমণের সময়ও এই ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট দেখা যেত। কামিনো স্মরণ করেন কীভাবে বিমানে অবসরের মুহূর্তগুলোতে খেলোয়াড়রা কোচিং স্টাফদেরও সঙ্গে নিয়ে নিতেন। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সবসময়ই ইতিবাচক পরিবেশ থাকতো এবং তারা সবসময় আমাদের দলের অংশ বলে মনে করাতো। আমরা বিমানে থাকতাম, আর তারা এসে আমাদের ট্রুকো (একটি ঐতিহ্যবাহী তাসের খেলা) খেলার জন্য নিয়ে যেত—আমি, ক্লাউডিও গুগলিয়ালি এবং হেড কোচ।’
কামিনোর ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলোর মধ্যে একটির পরিণতি ছিল বেশ তিতা। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর সাবেক এই খেলোয়াড় মেসির কাছে তিনি ম্যাচটিতে যে জার্সিটি পরেছিলেন তা চেয়েছিলেন। ‘ও জার্সিটি ড্রেসিংরুমে রেখে দিয়েছিল, আমি ওর কাছে চাইলাম এবং অবশ্যই সে আমাকে সেটা দিয়ে দিলো। আমি না ধুয়েই সেটা নিয়ে নিলাম এবং কিছু দিন পর ও তাতে সই করে দিলো,’ তিনি স্মরণ করেন।
জার্সিটি শেষ পর্যন্ত ফ্রেম বাঁধিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে রাখা হয়েছিল বলে জানান কামিনো, ‘আমি ওই জার্সিটা দিয়ে একটা সুন্দর ছবি তৈরি করেছিলাম, আমাদের গ্রামের বাড়িতে রেখেছিলাম, কিন্তু সেটি চুরি হয়ে যায়।’