সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে জড়িয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ থমাস ডুলি। আসিয়ান কাপে জামাল ভূঁইয়া ও সোহেল রানার পারফরম্যান্স নিয়ে তার নামে প্রচারিত মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কিছু বলতে চাননি আমেরিকান-জার্মান এই কোচ। শুধু জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আর কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি।
আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালের পর আবারও ঢাকায় হতে যাচ্ছে এই প্রতিযোগিতা। তাই এবার প্রস্তুতিতে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে ডুলির দল। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে জাতীয় দলের অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা। তার আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান না কোচ।
ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপের আগে জাতীয় দলের পাশাপাশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দেরও ট্রায়াল নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। এবার অন্তত তেমন কিছু হচ্ছে না। সাফের জন্য প্রাথমিক ক্যাম্পে ২৮ জন খেলোয়াড়কে ডাকতে চান ডুলি। আজ বাংলা ট্রিবিউনকে ৬৫ বছর বয়সী কোচ বলেন, ‘অনুশীলন শুরু করতে এবং প্রথম ম্যাচটি খেলতে আর তর সইতে পারছি না। এখন সাফের জন্য আমাকে ২৮ জন খেলোয়াড়কে ডাকতে হবে, তাই আমরা কোনও নতুন খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করতে পারছি না। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কে যাচ্ছে আর কে যাচ্ছে না। তারা ভালো কি না, তা দেখার জন্য আমি বরং অন্য খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখতে চাই।’
আসিয়ান কাপে যাদের নিয়ে খেলেছেন, তাদের মধ্য থেকেই এবার বেশি খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ডুলির। তবে ঘরোয়া ফুটবলে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় নতুন করে এক বা দুজনকে দলে ডাকতে পারেন তিনি। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি কোচ। সবশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই ২৮ জনের দল ঘোষণা করতে চান।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডুলির নামে একটি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, আসিয়ান কাপে জামাল ভূঁইয়া ও সোহেল রানা বেশ কিছু হতাশাজনক ভুল করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন কোচ। অনুশীলনে তাদের শারীরিক ভাষা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। দলের প্রতি প্রতিশ্রুতি ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের অভাব নিয়েও ডুলির সমালোচনা তাতে প্রচার পেয়েছে।
তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডুলি ওই মন্তব্যের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনও মন্তব্য করতে চাই না, আমি দুঃখিত। আপনাদের মতো সাংবাদিকদের যা দেখছেন এবং যা ভাবছেন, তা-ই রিপোর্ট করা উচিত। আমি কোনও সাংবাদিক নই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখি না, কিংবা সংবাদপত্রের জন্যও লিখি না। আমি কোনও টিভি উপস্থাপকও নই। আপনারা যা দেখছেন এবং যা ভাবছেন, তা-ই লিখুন।’