এক ইউরোর ভোটে রোনালদোর ধারেকাছে নেই মেসি!

ফুটবলের দুই মহাতারকার দ্বৈরথে এবার ব্যবধানটা যেন আকাশ-পাতাল! ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ীকে বেছে নেওয়ার এক ভোটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ধারেকাছেও নেই লিওনেল মেসি। ভোটের ৭৫ শতাংশই পেয়েছেন পর্তুগিজ তারকা। অন্যদিকে আর্জেন্টাইন মহাতারকার ঝুলিতে জমা পড়েছে মাত্র ৯ শতাংশ ভোট। তবে এই ভোটে অংশ নিতে প্রতিবার খরচ করতে হচ্ছে এক ইউরো।

ব্যালন ডি’অরের অফিসিয়াল পেজের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভোটে মুখোমুখি হয়েছেন রোনালদো ও মেসি। ভোট গ্রহণ শেষ হতে এখনও এক সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেই ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়েছেন রোনালদো। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তাঁর জেতা ব্যালন ডি’অরের পক্ষে পড়েছে ৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে ২০১২ সালে মেসির জেতা পুরস্কারটি পেয়েছে মাত্র ৯ শতাংশ।

কয়েক দিন আগেও ব্যবধান এতটা বড় ছিল না। গত শনিবার রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অর পেয়েছিল ৬২ শতাংশ ভোট। মেসির ২০১২ সালের পুরস্কারের পক্ষে ছিল ১৩ শতাংশ। এরপর ভোটের হিসাবে বড় পরিবর্তন এসেছে। যদিও ভোট গ্রহণ চলমান থাকায় শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কতটা থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

দুই তারকার নির্বাচিত বছরগুলোর পেছনে অবশ্যই রয়েছে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের যুক্তি। ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জিতেছিলেন রোনালদো। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটও উঠেছিল তার হাতে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছিলেন ৪২ গোল। দুর্দান্ত সেই মৌসুমই তাকে প্রথমবারের মতো এনে দেয় ব্যালন ডি’অর।

অন্যদিকে মেসির ২০১২ সালটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। সে বছর টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন তিনি। একই ক্যালেন্ডার বছরে ৬৯ ম্যাচে করেছিলেন ৯১ গোল, যা আজও তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বিস্ময়কর কীর্তি হিসেবে বিবেচিত।

ভোটের লড়াইয়ে তৃতীয় স্থান নিয়েও পরিবর্তন এসেছে। কাতার বিশ্বকাপে মেসির সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে রোনালদোর ২০১৭ সালের পুরস্কার। বর্তমানে সেই সংস্করণের পক্ষে ভোট পড়েছে ৬ শতাংশ। অন্য ঐতিহাসিক বিজয়ীদের ভোটের হার তুলনামূলকভাবে নগণ্য।

এই ভোটে জায়গা পেয়েছেন অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অর জেতা ১০ ফুটবলার। রোনালদো ও মেসির পাশাপাশি তালিকায় রয়েছেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ভ্যান বাস্টেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেডো দি স্টেফানো। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই কিংবদন্তিরা সম্মিলিতভাবে পেয়েছেন মোট ভোটের মাত্র ০.৪ শতাংশ।

এই ভোটের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো প্রতিটি ভোটের জন্য খরচ করতে হচ্ছে এক ইউরো। চাইলে একই খেলোয়াড়কে একাধিকবার ভোট দেওয়া যায়, কিংবা ব্যালন ডি’অরের অন্য কোনও সংস্করণও বেছে নেওয়া যায়। ওয়েবসাইটে নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে প্রার্থীদের ভোটের শতকরা হিসাব।

আগামী ২৭ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে একজনকে আগামী বছরের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার টিকিট দেওয়া হবে।