ইউরোপীয় ফুটবলে কেন আর নেই অ্যাওয়ে গোলের নিয়ম?

দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর সমান, তবু এক দল এগিয়ে। একসময় ইউরোপীয় ফুটবলে এমন সমীকরণে ভাগ্য নির্ধারক ছিল অ্যাওয়ে গোলের নিয়ম। প্রতিপক্ষের মাঠে করা গোলকে দেওয়া হতো বাড়তি গুরুত্ব। কিন্তু ২০২১ সালের জুনে সেই নিয়ম বাতিল করে উয়েফা। এরপর থেকে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর সমান থাকলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, প্রয়োজন হলে টাইব্রেকারে নির্ধারিত হয় বিজয়ী।

উয়েফার ক্লাব প্রতিযোগিতা কমিটি ও নারী ফুটবল কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অ্যাওয়ে গোলের নিয়ম বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উয়েফা সভাপতি অ্যালেক্সান্ডার সেফেরিন মনে করতেন, এই নিয়মের কারণে স্বাগতিক দল অনেক সময় আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে নিরুৎসাহিত হয়। বিশেষ করে দুই লেগের লড়াইয়ের প্রথম ম্যাচে।

সেফেরিন বলেছিলেন, ‘১৯৬৫ সালে চালু হওয়ার পর থেকে অ্যাওয়ে গোলের নিয়ম উয়েফার প্রতিযোগিতাগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। তবে গত কয়েক বছরে উয়েফার বিভিন্ন সভায় নিয়মটি বাতিল করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবার মত এক না হলেও অনেক কোচ, সমর্থক ও ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মটি তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।’

কেন এই পরিবর্তন? সেফেরিনের ব্যাখ্যা, সময়ের সঙ্গে নিয়মটির প্রভাব এর মূল উদ্দেশ্যের বিপরীতে চলে গেছে। প্রতিপক্ষের মাঠে গোল হজম করলে বড় সুবিধা দেওয়া হয়ে যাবে- এই আশঙ্কায় স্বাগতিক দল বিশেষ করে প্রথম লেগে আক্রমণে যেতে চাইতো না।

অতিরিক্ত সময়েও নিয়মটি নিয়ে প্রশ্ন ছিল। দুই লেগের মোট স্কোর সমান থাকার পরও প্রতিপক্ষের মাঠে করা গোলের কারণে এগিয়ে যেতে পারতো সফরকারী দল। সে ক্ষেত্রে সফরকারী দল অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল করলেই স্বাগতিকদের জয়ের জন্য দুটি গোল করতে হতো। উয়েফার মতে, এটিও ছিল নিয়মটির অসাম্যের একটি দিক।

উয়েফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক দলের জয়ের হার ছিল ৬১ শতাংশ। ২০২০-২১ মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় ৪৭ শতাংশে। একই সময়ে ম্যাচপ্রতি স্বাগতিক দলের গড় গোল ২.০১ থেকে কমে হয় ১.৫৮।

তবে অ্যাওয়ে গোলের নিয়ম পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি ফুটবল থেকে। লিগ পর্বের ম্যাচে দুই বা তার বেশি দলের পয়েন্ট সমান হলে র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণের কয়েকটি মানদণ্ডের মধ্যে অ্যাওয়ে গোলও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

আর অ্যাওয়ে গোলের নিয়ম বাতিলের পর এখন দুই লেগের ম্যাচে মোট স্কোর সমান হলে প্রতিপক্ষের মাঠে করা গোলের ভিত্তিতে আর বিজয়ী নির্ধারণ করা হয় না। অতিরিক্ত সময় ও প্রয়োজন হলে টাইব্রেকারই শেষ কথা।