হামজাকে নয়, শ্রীলঙ্কার কোচের পছন্দ বাংলাদেশের ফারহান!

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার বাংলাদেশ। স্বাগতিক হওয়ার পাশাপাশি হামজা চৌধুরীর মতো খেলোয়াড় থাকায় বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছেন শ্রীলঙ্কার কোচ আবদুল্লাহ আল মুতাইরি। তার চোখে শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। নিজেদের নিয়ে অবশ্য বড় কোনো প্রত্যাশা নেই এই কোচের। সাফে ভালো করার চেয়ে তার মূল লক্ষ্য ২০৩২ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়া। তবে বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে আলাদা মুগ্ধতা আছে তার। সেই ফারহানের জার্সিই চাইছেন নিজের জন্য! আর মজার ছলে অধিনায়ককে বলে দিয়েছেন, তিনি যেন হামজার জার্সি নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ধবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে ফেবারিট হিসেবে উল্লেখ করেন শ্রীলঙ্কার এই কুয়েতি কোচ। তিনি বলেন, ‘হোম গ্রাউন্ড ও দর্শকদের সমর্থনের কথা বিবেচনা করলে বাংলাদেশই ফেবারিট। তাদের হামজা চৌধুরী আছে। আমার প্রিয় খেলোয়াড় ফারহান। আমার বিশ্বাস, আগামী ১০ বছরে সে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা খেলোয়াড় হবে। এ ছাড়া শমিতও খুব ভালো খেলোয়াড়।’

বাংলাদেশের প্রস্তুতিরও প্রশংসা করেছেন মুতাইরি। তার মতে, গত কয়েক মাস ধরে একসঙ্গে অনুশীলন ও ক্যাম্প করার কারণে স্বাগতিক দলটি ভালোভাবে প্রস্তুত। তবে নিজেদের নিয়ে বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি করতে চান না তিনি। তার মূল্যায়নে, ভারত ও পাকিস্তানও শিরোপার লড়াইয়ে থাকবে।

শ্রীলঙ্কার কোচ বলেন, ‘আমার মতে, বাংলাদেশ প্রথম, এরপর ভারত ও পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আমরা এখানে এসেছি প্রতিযোগিতাটি সম্পন্ন করতে। তবে নিজেদের ফুটবল উপভোগ করতে চাই।’

সাফে শিরোপা জিতলে চুক্তি অনুযায়ী ভালো অঙ্কের বোনাস পাবেন মুতাইরি। তারপরও এই প্রতিযোগিতাকে নিজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চান না তিনি। শ্রীলঙ্কা ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে তার চার বছরের চুক্তির মূল লক্ষ্য ২০৩২ এশিয়ান কাপ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাফ জিতলে আমি ভালো বোনাস পাব। কিন্তু শুধু সাফের জন্য কেন নিজের সব পরিকল্পনা নষ্ট করব? আমার লক্ষ্য সাফ কাপ নয়, ২০৩২ এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। শ্রীলঙ্কা ফেডারেশনের সঙ্গে আমার চুক্তির মূল পরিকল্পনাও সেটি।’

এশিয়ান কাপের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে এগোতে চান মুতাইরি। এ জন্য দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। এমনকি আমন্ত্রণ পেয়েও এএফসি অঞ্চলের বাইরে আসিয়ান কাপে খেলতে রাজি হয়নি শ্রীলঙ্কা। কোচের ব্যাখ্যা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের নির্দিষ্ট পথেই এগোতে হবে।

সাফের আগে প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট শ্রীলঙ্কার কোচ। গত এক বছর ধরে দলটি এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। ২০২৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব সামনে রেখে শুরু হয়েছিল তাদের প্রস্তুতি। গত জুনে ভুটানের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পর সেপ্টেম্বরে সেশেলসের বিপক্ষে দুটি ও মরিশাসের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছে তারা। তবে টুর্নামেন্টের আগে চোটের কারণে দুই খেলোয়াড়কে হারানোয় কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কোচ।

মুতাইরি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ভালো। খেলোয়াড়েরা প্রস্তুত। তবে দুঃখজনকভাবে গতকাল দুই খেলোয়াড়ের এসিএল চোট নিশ্চিত হয়েছে। আশা করি, তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবে।’

শ্রীলঙ্কার দলে ইউরোপে খেলা ফুটবলারও রয়েছেন। কোচের হিসাবে, ১৮ থেকে ১৯ জন প্রবাসী বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় আছেন। তাদের মধ্যে কেউ ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ বা পঞ্চম বিভাগে খেলেন, আবার কেউ জার্মানির দ্বিতীয় বুন্দেসলিগায়ও খেলেছেন।

এ বিষয়ে মুতাইরির বক্তব্য, ‘আমাদের ফেডারেশন ও দেশের একটি নীতি আছে। কারও শরীরে শ্রীলঙ্কার রক্ত থাকলে, সে প্রিমিয়ার লিগে খেলুক কিংবা সপ্তম বিভাগে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। সে কোথায় খেলে, সেটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশের হয়ে খেলার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত।’

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে প্রবাসী বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তিনি। বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে মুতাইরি বলেন, হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের ম্যাচে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও ফাহিমের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দলের শক্তি বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের খেলোয়াড় আরও যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের মান বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সুজন পেরেরার। সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও মাঠ সম্পর্কে পরিচিতি তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে কি না। সুজনের উত্তর, ‘এটি কিছুটা সাহায্য করবে। আমি খেলোয়াড়দের চিনি। বাংলাদেশের হয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগেও খেলেছি। এখানে খেলতে আমার ভালো লাগে।’

তবে সুজনের কাছ থেকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাননি বলে মজা করে জানিয়েছেন কোচ। সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে ফারহানকে নিয়ে নিজের ভালো লাগার কথাও জানাতে ভোলেননি মুতাইরি। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফারহানের জার্সি নিজের জন্য দাবি করে রসিকতা করে তিনি বলেন, তার কোনো খেলোয়াড় সেই জার্সি নিতে চাইলে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হবেন! আগামী ১০ বছরে ফারহান বড় তারকা হবে বলে তার বিশ্বাস। বরং অধিনায়ককে হামজার জার্সি নেওয়ার চেষ্টা করতে বলেছেন তিনি।